রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুক্রবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামে সুপরিচিত। তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের দায়িত্ব এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, জনপ্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। তাঁর মতে, ২০২৪ সালে হাজার হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো হলেও সেই ঐতিহাসিক অর্জন বর্তমানে ম্লান হয়ে পড়েছে। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। অন্যথায় সরকারের প্রতি মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
নারায়ণগঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, একটি তরতাজা প্রাণকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি জোর দাবি জানান।
স্বাধীনতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষ যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছিল, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছর পেরিয়ে গেলেও যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা মানবাধিকারের ধারাবাহিক লঙ্ঘন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে বলেও তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ যারা বিভিন্ন সময়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে, তাদের নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সন্তানহারা মায়েদের হৃদয়বিদারক চিৎকার এখনো থামেনি। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার হওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। বিনা বিচারে মানুষের কারাবাসও বন্ধ হয়নি। এই ধরনের নীতি ও আদর্শ মানুষের জীবনে প্রকৃত শান্তি আনতে পারে না। তাঁর মতে, একমাত্র ইসলামই মানুষকে দুনিয়া ও পরকালে—উভয় জগতে—শান্তির সঠিক পথ দেখাতে সক্ষম।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ ফজলে বারী মাসউদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টা ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলম ও নেছার উদ্দীন, সহকারী মহাসচিব আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, লোকমান হোসাইন জাফরী এবং রেজাউল করীম আবরার। সম্মেলনের শেষ পর্বে চরমোনাই পীর ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এতে আতিকুর রহমান মুজাহিদকে সভাপতি এবং নূরুল ইসলাম নাঈমকে সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত করা হয়।




