রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুক্রবার দুপুরে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও দলের আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যেকোনো স্থানে ভ্রমণ করতে পারেন; ভারত সফর করতেও কোনো ধরনের অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতা, সমমর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। দেশের জনগণ আর কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না বলে তিনি জোর দেন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে বন্ধুত্ব, সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে — এ কথা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকারের প্রধান ও দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরার ক্ষমতা তার হাতে রয়েছে। তিনি চাইলে এসব অনিয়ম বন্ধ হবে; কিন্তু তিনি আসলে তা চাইছেন কিনা, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় বিষয় বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের পরিচিতি লাভ করেছে। মানুষের এই আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের জন্য সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের দাওয়াত প্রচার এবং আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।
আগামী স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নেতা-কর্মীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার নিশ্চিত করেন। ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি নির্দেশনা দেন।
মহানগর জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য কেরামত আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সহকারী অঞ্চল পরিচালক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির আবদুল খালেক।



