২০১৯ সালের একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিউ হ্যাম্পশায়ারের বাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেই দুর্ঘটনায় কিমি স্মোথারম্যান তার অন্য এক নাতি, দুটি কুকুর এবং কয়েক ডজন গিনিপিগকে হারান। গভীর বিষণ্ণতায় ডুবে গেলেও তিনি থামেননি। পরিবার হোটেলে থাকাকালীনও মানুষ সাহায্যের জন্য প্রাণী নিয়ে আসতে থাকলে, অ্যালেক্সের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার শক্তি পান তিনি। পরে ম্যাসাচুসেটসের স্যালিসবারিতে, বস্টনের উত্তরে প্রায় ৪০ মাইল দূরে, নতুন করে গড়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় গিনিপিগ অভয়ারণ্য।

আজ সেখানে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০টি প্রাণীর যত্ন নেওয়া হয়। সকালে প্রায় চারশ গিনিপিগের চিৎকার, কিচিরমিচির ও গরগরের শব্দে জেগে ওঠেন স্মোথারম্যান। কারো মতে এটি রূপকথার মতো, কারো চোখে বিশৃঙ্খলার এক দৃশ্য—তার কাছে দুটোই সত্যি। মজার ছলে তিনি বলেন, এই অবস্থায় বের হওয়ার উপায় জানা থাকলে হয়তো বেরিয়ে যেতেন, কিন্তু একই সঙ্গে স্বীকার করেন—এই দায়িত্ব ছাড়া হয়তো তিনি বিছানা ছেড়েও উঠতেন না। একটি রূপান্তরিত অফিস কক্ষে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত সাজানো খাঁচায় প্রাণীগুলো বসবাস করে। সংকীর্ণ ও বিশৃঙ্খল পরিবেশে স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থীরা চলাচল করেন; কেউ খাঁচা পরিষ্কার করছেন, কেউ অসুস্থদের দেখছেন। খাবারের সময় লেটুস ও অন্যান্য সবজির অপেক্ষায় থাকা ছোট প্রাণীদের চিৎকারে হাসির রোল ওঠে, আবার কেউ তাদের কোলে নিয়ে সান্ত্বনা দেন। প্রতিটি প্রাণীর নাম খাঁচার বাইরে লেখা; মাউই বন্ধুত্বপূর্ণ ও চুমু দেয়, গ্রিট্টি বয়স্ক কিন্তু লাজুক, রিও চঞ্চল ও দৌড়াতে পছন্দ করে। তারা যত্নকারীদের গন্ধ চিনে ফেলে এবং প্রিয়জনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। স্বেচ্ছাসেবক জ্যানেট উডম্যান বলেন, এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রাণী; ঘোড়ার পর হয়তো এগুলোই সবচেয়ে ভালো থেরাপি প্রাণী হতে পারে।

এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে পরিত্যক্ত গিনিপিগদের জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি উদ্ধারকেন্দ্রের একটি। মালিকরা ভ্রমণে গেলে প্রাণীদের অস্থায়ী যত্নের সুবিধা রয়েছে, সম্ভব হলে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়। দক্ষিণ আমেরিকার কেভিয়া পর্সেলাস প্রজাতি থেকে উদ্ভূত, ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা এই প্রাণীগুলো স্মিথসোনিয়ান জাতীয় চিড়িয়াখানা অনুযায়ী খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ সালে গৃহপালিত হয়েছিল; এখন ১৩টি ভিন্ন জাত রয়েছে, যেগুলো পোষা ও খাদ্য—উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়। স্মোথারম্যানের মতে, গিনিপিগদের জোড়ায় পালতে হয়; তারা সামাজিক প্রকৃতির এবং সবসময় খাঁচায় বন্দি রাখা যায় না।

সবকিছু শুরু হয়েছিল নাতি অ্যালেক্সের হাত ধরে। শিশু বয়সে আগুনে পড়ে তার স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়; ১২ বছর বয়স পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রাণী থেকে দূরে থাকত সে। কিন্তু একদিন জানা যায় গিনিপিগের সঙ্গে যোগাযোগ তার জন্য নিরাপদ। এরপর পরিবারটি পরিত্যক্ত প্রাণীদের আশ্রয় দিতে শুরু করে। চলতি বছরের শুরুর দিকে অভয়ারণ্য খুলতেই এক বৃদ্ধা নারী দুটি খাঁচা নিয়ে আসেন। স্বামীর অসুস্থতার কারণে পোষা প্রাণীর যত্ন নিতে পারছেন না বলে জানান তিনি। স্মোথারম্যান তাকে জড়িয়ে ধরে সাধারণ ফি মওকুফ করেন এবং বলেন, যাদের প্রয়োজন তারা যেন সরাসরি এখানে নিয়ে আসেন, দায়িত্ব তিনি নেবেন। অন্যদিকে সারা দেশ থেকে ফোন আসে—ইলিনয় থেকে ১১টি, টেক্সাস থেকে ৭টি, নিউ ইয়র্ক থেকে ৯৭টি; যেগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চাপ তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।

কাজটি কঠিন; বছরে হাতে গোনা কয়েকদিন মাত্র ছুটি। তবু শত শত প্রাণীর যত্ন নেওয়ার অবিরাম চাপ তাকে স্থির রাখে। তিনি বলেন, তিনি না উঠলে তারা খেতে পাবে না এবং মারা যেতে পারে। তাই এটি পছন্দের বিষয় না হলেও, তাকে উঠতেই হয়। এভাবেই প্রতিদিন নতুন করে শুরু হয় আমেরিকার সবচেয়ে বড় গিনিপিগ অভয়ারণ্যের জীবন। ফরচুন ডটকমে প্রথম প্রকাশিত প্রতিবেদনটি অনুসারে এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে।