পটুয়াখালী সদর উপজেলার যুব জামায়াত সভাপতি শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে একটি মামলা রুজু হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) আদালতের নির্দেশক্রমে পটুয়াখালী সদর থানার পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের পিতার নাম আবুল কালাম।
গত ২২ জুলাই একজন ২৮ বছর বয়সী নারী পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগপত্রে একমাত্র আসামি করা হয় শহিদুল ইসলামকে। ওই দিনই বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার বিকেলে আদালতের নির্দেশনার কপি পাওয়ার পর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী সাত বছর আগে মারা গেলে তিনি তাঁর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে পিত্রালয়ে বসবাস শুরু করেন। শহিদুল ইসলাম সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এক পর্যায়ে তিনি ওই নারীর কাছে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং তা প্রত্যাখ্যাত হলে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বিয়ের আয়োজন নিয়ে কথা বলার অজুহাতে শহিদুল তাঁকে জেলা শহরে অবস্থিত তাঁর বোনের বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে বাধ্য করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ মার্চ তাদের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এর ফলে ওই নারী গর্ভবতী হলে, চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রায় ছয় সপ্তাহের ভ্রূণ ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বাদী বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে অভিযুক্ত তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দেন। থামায় সরাসরি মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
ঘটনা সম্পর্কে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেছেন, বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন, তাই এখন মন্তব্য করা সংগত হবে না। তিনি আরও বলেন, যদি আদালতে শহিদুল ইসলাম দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




