রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশা নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে একজনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২)। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান এ তথ্য জানান।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনোয়ার হোসেন ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত পারভেজকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন মনোয়ার। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ জুলাই। আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
আদাবর থানা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মনোয়ার হোসেন আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দুই দফা বহিষ্কার করা হয়। নবোদয় হাউজিং এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশার হত্যার পর তার জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
এ মামলায় ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, আবুল বাশার হত্যার জন্য মূল অভিযুক্ত পারভেজকে অস্ত্র সরবরাহের কাজটি করেছিলেন মনোয়ার।
র্যাব আরও জানায়, মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদকসহ মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন তিনি। সে সময় গ্রেপ্তার হয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। ২০২১ সালে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। একটি অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ দিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় র্যাব।




