কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১১ থেকে গত ২২ জুলাই দুপুরে পাঁচ বছরের শিশু রহমত আলীকে অপহরণ করা হয়েছিল। শিশুটির বাবা মো. জুনায়েদ জানান, প্রথমে অপহরণকারীরা ছয় লাখ টাকা দাবি করে। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে তিন লাখ বিশ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। সেই টাকা আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন হিসাবে জমা দেওয়ার পর শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অপহরণের পর অপহরণকারীরা শিশুটিকে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ভয়ে পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়েই অপহরণকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টা-তদবিরের পর মুক্তিপণের পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। অপহরণকারীদের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা পাঠানোর পর শিশুটি নিরাপদে ফিরে আসে।

বুধবার ভোরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে অপহরণ চক্রের সদস্য মো. জাকারিয়া ওরফে জকরিয়াকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপহরণে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান অহিদুর রহমান। গ্রেপ্তার জাকারিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটি বর্তমানে পরিবারের হেফাজতে রয়েছে এবং তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

শিশুটির বাবা মো. জুনায়েদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি বলেন, ছেলেকে ফিরে পেতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। প্রথমে অপহরণকারীরা ছয় লাখ টাকা দাবি করলেও পরে নানা চেষ্টায় তিন লাখ বিশ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। টাকা পাঠানোর পরই তাঁর ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য ক্যাম্পে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীও কাজ করছে। উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রায়ই এ ধরনের অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।