গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা বড়িসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত প্রায় একটার দিকে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। সেখানকার জোবেদা ফিলিং স্টেশনের কাছে থেকে শাকিল খান (২৬) নামের ওই নেতাকে হাতে নাতে ধরা হয়। তিনি এনসিপির সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার প্যান্টের পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো আটটি ইয়াবা বড়ি জব্দ করে পুলিশ। শাকিল খান উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সীচা গ্রামের নূর মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শাকিল খানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় শাকিল মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর) রাশেদুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাকিল খানের আচরণ দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। তাই তাকে সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলের সব দায়িত্ব ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একইসঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে শাকিল খানের সঙ্গে দলের নামে কোনো সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, রোববার রাতে সুন্দরগঞ্জ থানার কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজার নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারের পর শাকিল খানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে এসআই সেলিম রেজা নিশ্চিত করেছেন। এই মামলায় পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মাদক ও অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা চলছে। এনসিপির এই পদক্ষেপ দলের শৃঙ্খলা রক্ষার উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসাজশের প্রসঙ্গকে আবারও সামনে এনেছে।