জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা হারানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী সমাবেশে এক অনন্য প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, 'তিনি তো আসতে চাইছেন, জনগণ তাকে স্বাগত জানাতে তৈরি; আসুন, আপনি যেভাবে আসতে চান।'

রাজধানীর মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপির কড়া সমালোচনা করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের সুফলভোগী এই দলই এখন সেই অভ্যুত্থানের চেতনা ভুলে গেছে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যেই জুলাইয়ের প্রসঙ্গ তোলাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করছেন, অথচ সেই অভ্যুত্থান ছাড়া তাদের বর্তমান অবস্থান কল্পনাতীত ছিল।

সেক্রেটারি জেনারেল আরও অভিযোগ তোলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চলছে এবং আদালত থেকে তাদের জামিন দেয়া হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ২০২৪ সালের রক্তাক্ত স্মৃতি সৃষ্টিকারী চক্রকে আবার সুযোগ দেয়া হলে তা জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণভোটের রায়কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব তফসিলভুক্ত করতে হবে। তা ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক বিতর্ক নিষ্পত্তির জন্য রাজপথই হবে একমাত্র পথ, এবং ৭০ শতাংশ জনগণের ফায়সালা সেখানেই ঘটবে।

একই দিনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত আরেকটি জমায়েতের প্রধান অতিথি হিসেবে দলের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান অনড় কণ্ঠে বিএনপিকে গণতান্ত্রিক দল মানতে অস্বীকৃতি জানান। তার ভাষ্য, 'গণতান্ত্রিক দলের পরিচয় তখনই, যখন সে জনমত মেনে চলে। গণভোটে ৭০ ভাগ রায় অমান্য করায় বিএনপি অগণতান্ত্রিক দলে রূপান্তরিত হয়েছে।' তিনি সতর্ক করেন, সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তবে সংসদীয় লড়াই অনিবার্যভাবে রাজপথে গড়াবে।

মহাখালীর সমাবেশের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন; অন্যদিকে দক্ষিণের সমাবেশ পরিচালনা করেন দলের স্থানীয় আমির ও এমপি মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। উভয় আয়োজনে কেন্দ্রীয় ও নগর পর্যায়ের বক্তারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে মহাখালী থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে তেজগাঁও তিব্বত মোড়ে শেষ হয়। এতে বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পরবর্তী প্রায় দুই ঘণ্টা ওই সড়কটি প্রচণ্ড যানজটের মুখে পড়ে।