সংবিধান সংস্কার করে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের লক্ষ্যে চলমান আন্দোলনের গতি আরও বাড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। শনিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার ২০২৫-২০২৬ সেশনের তৃতীয় অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধিবেশনে তিনি নেতাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যেকোনো ধরনের মন্তব্য, সিদ্ধান্ত কিংবা রাজনৈতিক কৌশল যেন গণআন্দোলন ও জনগনের মধ্যেকার ঐক্যে ফাটল ধরাতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মামুনুল হক বর্তমান থেকেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর জোর দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৎ, যোগ্য ও জনদরদী প্রার্থী বাছাই করে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করতে হবে।

অধিবেশনে খেলাফত মজলিসের তরফে ৯ দফাবিশিষ্ট এক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে সংবিধানে 'আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' কথাটি প্রত্যাবর্তনের জোর দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি, কোরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী সকল বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানকে অবৈধ ঘোষণার জন্য সাংবিধানিক ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়। এই প্রস্তাবসমূহের মধ্যে আরও ছিল মহানবি (সা.), আল্লাহ ও ইসলাম ধর্মের প্রতি কটাক্ষের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সম্বলিত আইন প্রণয়ন এবং জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন।

আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা তাৎক্ষণিক বন্ধ, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দান এবং ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন রোধে আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করা হয়। এছাড়া হবিগঞ্জ ও দেশের অন্যত্র দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যে হামলা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সাংবিধানিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে বলা হয়।

অনুষ্ঠানে দলের অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা আকরাম আলী, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা আলী উসমান, মুফতি সাঈদ নূর এবং মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী প্রমুখ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।