ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্যশীল শিক্ষকদের প্ল্যাটফর্ম ‘নীল দল’–কে নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। শুধু নিষিদ্ধের দাবিই নয়, একই সঙ্গে এই ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘটনারও তীব্র বিরোধিতা করেছে তারা।
সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক জিনাত হুদার সই করা এক প্রতিবাদলিপি শনিবার প্রকাশিত হয়। তাতে অভিযোগ করা হয়, নীল দলকে নিষিদ্ধ করার এই প্রয়াস প্রকৃতপক্ষে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করার একটি কৌশল। চব্বিশের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নীল দলের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তাও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করে প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রতিহিংসার মনোভাব থেকেই বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’ এই যুক্তিহীন দাবি তুলেছে।
সাদা দলের দাবির প্রেক্ষাপটে ২৩১ জন শিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে উপাচার্য, দুই সহ-উপাচার্য এবং সাদা দলের আহ্বায়ককে নিয়ে একটি চার সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে। এই কমিটি গঠনকে ‘আত্যাঘাতী সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করে নীল দল সতর্ক করে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নেওয়া এমন পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সাদা দলসহ অন্য যেকোনো গোষ্ঠীর বাক্ত্বাধীনতা ও পেশাগত স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের শাসনের আওতায় আনার এই ঘটনাকে ‘নযিরবিহীন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে নীল দল। প্রতিবাদলিপিতে তারা ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের বরাত দিয়ে জানায়, প্রত্যেক শিক্ষকেরই স্বীয় রাজনৈতিক দর্শন, বিশ্বাস ও আদর্শের ভিত্তিতে সমমিতি গঠনের অধিকার আছে। সেই সূত্রে ক্যাম্পাসে নীল, সাদা ও গোলাপি দলের দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের ঐতিহ্য বিদ্যমান।
বিগত দুই বছর ধরে মতবিরোধের কারণে বহিষ্কার, শিক্ষায়তনিক ও প্রশাসনিক শাস্তি এবং তদন্ত কমিটির নামে ভিন্নমতের শিক্ষকদের প্রতি দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানায় সংগঠনটি। তাদের মতে, এটি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক ভয়াবহ ইঙ্গিত।
প্রতিবাদে আরও বলা হয়, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মূলনীতি ধরে রেখে শিক্ষকদের চূড়ান্ত স্বাধীনতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন সুনিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। বৌদ্ধিক চর্চা ও মেধার উকর্ষ সাধনের স্থলে জনরোষের সংস্কৃতি ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাকরি থেকে বরখাস্তের যে ধারা চলছে, তা শিক্ষক সমাজ কখনই গ্রহণ করবে না।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ জুলাই সাদা দল উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে নীল দলকে বে-আইনি ঘোষণা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়। ওই স্মারকলিপিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরোধিতা করা, ফ্যাসিবাদকে সমর্থন দেওয়া এবং গত ১৭ বছরে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র ও বিপরীত মতের শিক্ষকদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয় নীল দলের বিরুদ্ধে।




