জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নানা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ পরিস্থিতি শিথিল হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে বর্তমান মূল্য এখনো ব্রেক-ইভেন্ট পয়েন্টের উপরে থাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। গত মার্চ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সময়ে বিপিসির মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমলে দেশের বাজারে দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

গ্যাস সরবরাহ প্রসঙ্গে ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে।

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চলমান নেই এবং তাদের সাথে কোনো চুক্তিও বিদ্যমান নেই। তবে অতীতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া দুটি কুইক রেন্টাল কেন্দ্রের সাথে ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে, যা এখন কার্যকর রয়েছে। এসব কেন্দ্রের জন্য কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান করা হচ্ছে না।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর। মন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সরকার বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তি করার সময় ‘সভেরেন গ্যারান্টি’ প্রদান করে, যা রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি হিসেবে গণ্য। এই গ্যারান্টি বাতিল করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি চুক্তির দাম কমানোর এবং বিলম্ব ফি পরিশোধ না করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে।’ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কোনো কেন্দ্র উৎপাদনে এলে সিস্টেম চালু রাখতে জোড়াতালি না দিয়ে কঠোর আলোচনার প্রয়োজন। চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাম কমানোর চেষ্টা করা হবে।

এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১০ সালের বিশেষ আইনের অধীনে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনায় গঠিত দুটি কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।