টেস্ট ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ের এক অনন্য মাইলফলকে পৌঁছে গেলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট। উইকেটরক্ষক ব্যতীত অন্য যেকোনো ফিল্ডারের মধ্যে এখন তিনিই টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ক্যাচের মালিক। মোট ২১৯টি ক্যাচ নিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথকে, যিনি এতদিন ২১৮টি ক্যাচ নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছিলেন। এই অর্জনের মাধ্যমে ইংলিশ অধিনায়ক ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের এক অভিজাত ক্লাবে নিজের নাম আরও দৃঢ়ভাবে লিখে নিলেন।

এই কীর্তির মঞ্চ তৈরি হয় হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে। ইনিংসের মাত্র চতুর্থ ওভারেই ঘটে যায় ঐতিহাসিক মুহূর্তটি। ইংলিশ পেসার জফরা আর্চারের একটি বল পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান আজান ওয়াইসের ব্যাটে লেগে সরাসরি স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা রুটের হাতে ধরা পড়ে। ৯ রানে ওয়াইসকে ফেরানোর সেই ক্যাচটিই রুটকে এনে দেয় নতুন বিশ্বরেকর্ড। ঘটনার সরলতায় লুকিয়ে ছিল ইতিহাসের গুরুত্ব।

এই তালিকার অন্যান্য অবস্থানও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে পরিচিত। ২১০টি ক্যাচ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের কিংবদন্তি রাহুল দ্রাবিড়। চতুর্থে থাকা শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনের ক্যাচ সংখ্যা ২০৫। আর দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস ২০০ ক্যাচ নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছেন। এদের সবার উপরে উঠে আসা রুটের এই সাফল্য ইংলিশ ক্রিকেটের জন্যও গর্বের বিষয়।

ক্যাচের এই সাফল্যের ঠিক আগের দিনই ব্যাট হাতে আরেকটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করেন রুট। টেস্টে সবচেয়ে বেশি অর্ধশতক রানের ইনিংসের রেকর্ডে তিনি নাম লেখান ভারতের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের পাশাপাশি। দুজনেরই এখন ৬৮টি করে ফিফটি, যা এই তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষ স্থান। হেডিংলির প্রথম ইনিংসে রুট ১১২ বল খেলে ৬৬ রান সংগ্রহ করেন, যেখানে ছিল ১০টি চারের মার। এই তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিবনারায়ণ চন্দরপলের ৬৬টি, অ্যালান বোর্ডার ও দ্রাবিড়ের ৬৩টি করে ফিফটি রয়েছে।

অধিনায়ক হিসেবে রুটের পারফরম্যান্সও প্রশংসনীয়। টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে ৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংস এখন তাঁর ৪২টি, যা এই বিশেষ তালিকায় পঞ্চম স্থান। দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ ৬১টি ইনিংস নিয়ে শীর্ষে। এরপর রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং (৫৪), অ্যালান বোর্ডার (৫১) এবং পাকিস্তানের মিসবাহ-উল-হক (৪৩)।

ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলগতভাবেও ইংল্যান্ড এই ম্যাচে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৪০৯ রানে অলআউট হয়ে স্বাগতিক দলটি ২৩৮ রানের বড় লিড অর্জন করে। এর আগে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৭১ রানে গুটিয়ে যায়। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি ইংল্যান্ডের হাতে।