ভারতের ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ জেনিফার উইঙ্গেট। সম্প্রতি আগস্ট মাসের প্রথম রোববার, অর্থাৎ ২ আগস্ট, ভারতে বন্ধু দিবস পালিত হয়েছে। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নিজের গায়েহলুদের কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন ৪১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। ভিডিওটির সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন জনপ্রিয় গান ‘গাল মিঠঠি মিঠঠি বোল’।

ক্যাপশনে জেনিফার লিখেছেন, তাঁর গায়েহলুদ ছিল নিছক একটি উদযাপন নয়, বরং ভালোবাসায় ভরা এক ঘর। প্রতিবার যখনই তিনি এই ছবিগুলোর দিকে তাকান, তখন নতুন কিছু চোখে পড়ে—কোনো হাসি, কোনো আলিঙ্গন, কেউ উল্লাস করছে, আবার কেউ নিশ্চিত করছে সবকিছু যেন নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, অনেকে মনে করেন তাদের জীবনে দারুণ বন্ধু থাকায় তারা ভাগ্যবান। কিন্তু জেনিফারের ভাষায়, জীবনে নিশ্চয়ই তিনি এমন কোনো ভালো কাজ করেছেন, যার জন্য এই বন্ধুদের পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। তিনি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ বলে উল্লেখ করেন।

বন্ধু দিবস ও গায়েহলুদের আনন্দ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে জেনিফারের ক্যাপশনে। তিনি লেখেন, নিজের গায়েহলুদে হাসতে হাসতে তাঁর গালে ব্যথা হয়ে গেছে। জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হলো সেই মানুষগুলো, যারা সব সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। বন্ধু দিবসে তিনি তাঁর প্রিয় মানুষদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তারাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।

ইনস্টাগ্রামে এই ছবিগুলো অনেকেই রিপোস্ট করে মন্তব্য করেছেন, মনে হচ্ছে এ বছর বসন্ত একটু আগেই চলে এসেছে। উল্লেখ্য, জেনিফারের গায়েহলুদের অনুষ্ঠানটি হয় ৪ জুলাই ২০২৬ সালে ভারতের পৈতৃক বাড়িতে। এর কিছুদিন পর, ১৬ জুলাই ২০২৬-এ যুক্তরাজ্যের একটি শতবর্ষী পুরোনো দুর্গে গোপন ও ছোট আয়োজনে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে ৪১ বছর বয়সী জেনিফার ও ৪২ বছর বয়সী উইলিয়াম ইসমাইলের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, আকাশে একটা পরি উড়ছিল, সে কিছুক্ষণের জন্য বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারতে পৃথিবীতে নেমেছে।

জেনিফার উইঙ্গেট ও উইলিয়াম অন্তত তিন বছর বিয়ের আগে লুকিয়ে প্রেম করেছেন। ব্রিটিশ নাগরিক উইলিয়াম ইসমাইল ফাইন্যান্স পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং সিঙ্গাপুরের এমএইচসি ডিজিটাল গ্রুপে কর্মরত। এই সম্পর্কের বিষয়টি আগাগোড়াই গোপন রাখা হয়েছিল এবং বিয়ের আগে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

গায়েহলুদে জেনিফারের পরনে ছিল সেজ-গ্রিন (হালকা সবুজ) রঙের এমব্রয়ডারি করা মখমলের লেহেঙ্গা-চোলি। সঙ্গে ছিল হালকা অরগাঞ্জা দোপাট্টা। গয়নায় ছিল স্টেটমেন্ট ইয়াররিং, বালা ও মিনিমাল মেকআপ। তার লুক ছিল খুবই স্বাভাবিক ও এলিগ্যান্ট। বিয়েতেও জেনিফারের লুক ছিল খুবই মিনিমাল, ক্ল্যাসি ও এলিগ্যান্ট। বিচ্ছেদের এক যুগ পর তিনি আবার বিয়ে করলেন, যা তাঁর ভক্তদের জন্য বেশ চমকপ্রদ।