দক্ষিণ-পূর্ব চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যায় সর্বস্ব হারিয়েছেন এক প্রবাস ফেরত ব্যক্তি। ডলু নদের প্রবল স্রোতে তাঁর পাকা বসতঘর ও চার শতক ভিটেমাটি সম্পূর্ণ ধসে গেছে। স্থানীয়রা জানান, বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার মধ্যরাতে সংলগ্ন সড়কটি ভেঙে যায়। এরপরই সেলিমের বাড়ির সীমানাপ্রাচীরে আঘাত হানে স্রোত। বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে সেলিম ও তাঁর পরিবারকে সরিয়ে নেন। পরদিন দুপুরে পুরো বসতভিটা নদের পানিতে তলিয়ে যায়।

মো. সেলিমের বসতি সাতকানিয়া পৌরসভার দক্ষিণ সামিয়ারপাড়ায়। ১৮ বছর প্রবাসে কাটিয়ে তিনি পৈতৃক জমিতে ১৫ বছর আগে পাকা ঘর নির্মাণ করেন। পরিবারে স্ত্রী, দুই সন্তান ও অন্যান্য সদস্য মিলিয়ে মোট নয়জন মানুষ। বর্তমানে তারা এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। জানালেন, নিজেদের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার করতে পারেননি তারা।

সেলিম জানান, সারা জীবনের জমানো অর্থ দিয়ে তিনি এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। এক মুহূর্তের মধ্যেই তা বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াব, কীভাবে পরিবার নিয়ে টিকে থাকব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’

এদিকে সাতকানিয়া উপজেলায় এক সপ্তাহ ধরে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পানি ধীরে ধীরে কমলেও চার লাখের বেশি মানুষ এখনও পানি বন্দী। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে।

সোমবার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ওই উপজেলায় গিয়ে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। বাড়িঘর মেরামত, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গবাদি পশুর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব রকম উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, উদ্ধার ও ত্রাণ এখন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে।