দীর্ঘ অপেক্ষার পরও স্বস্তি মেলেনি বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য। ৪৫তম সাধারণ ও ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর পেরিয়ে গেছে সাত মাস। অথচ এখনও গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সোমবার বিষয়টি নিয়ে কথা বললেও তাঁর বক্তব্যে প্রার্থীদের মূল প্রশ্নের জবাব মেলেনি। গেজেট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা চলতি জুলাইয়ের মধ্যে এটি সম্ভব কি না—এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত তিনি দিতে পারেননি। তবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তীব্র জনবলসংকট চলছে এবং দ্রুত নতুন কর্মকর্তা প্রয়োজন। এই সংকট মেটাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

প্রশাসনিক জটিলতার কথা স্বীকার করে মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও রি-ভেরিফিকেশনের মতো আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের স্বার্থে এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করতে হয়। তাই তড়িঘড়ি করার সুযোগ না থাকায় বিলম্ব হচ্ছে।

এই বিলম্বের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে সদ্য ঘোষিত ৪৭তম বিসিএসের ওপর। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪৫ ও ৪৯তম বিসিএসে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অনেক প্রার্থী চাকরি নিশ্চিত না হওয়ায় পরবর্তী ৪৭তম বিসিএসের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। মেধার স্বাক্ষর রেখে তাঁরা এই নতুন বিসিএসেও উত্তীর্ণ হয়েছেন। স্বাভাবিক নিয়মে আগের বিসিএস দুটির গেজেট যথাসময়ে প্রকাশিত হলে তাঁরা সহজেই নিশ্চিত চাকরি বেছে নিতেন এবং ৪৭তম বিসিএসের পদ ছেড়ে দিতেন। কিন্তু বর্তমান ধোঁয়াশার কারণে তাঁরা কোনো ঝুঁকি নিতে পারছেন না। ফলে দুটি জায়গায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ৪৭তম বিসিএসের পদ ছাড়তে পারছেন না। চাকরিপ্রার্থীদের আশঙ্কা, এই সমন্বয়হীনতার কারণে ৪৭তম বিসিএসের প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি মূল্যবান প্রথম শ্রেণির গেজেটেড পদ স্থায়ীভাবে ফাঁকা যেতে পারে।

এদিকে, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনেও নেমে এসেছে চরম সংকট। ৪৫তম সাধারণ বিসিএসের ১ হাজার ৮০৭ জন এবং সরকারি কলেজের শিক্ষকের জন্য নেওয়া ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের ৬৬৮ জন প্রার্থী—সবার জীবন থমকে গেছে। চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসার পর অনেকেই আগের খণ্ডকালীন চাকরি বা টিউশনি ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখন মাসের পর মাস গেজেটের অপেক্ষায় জমানো টাকা শেষ হয়ে গেছে। বন্ধুদের আড্ডায় বা সামাজিক মাধ্যমের ‘ক্যাডার’ পরিচয়ের সম্মান মিললেও বাস্তব জীবনে অর্থকষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী প্রার্থীদের দাবি, তাঁদের ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা দূর করতে এবং ৪৭তম বিসিএসের শত শত পদ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে সরকার যেন দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে। সব ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তাঁরা।