প্রযোজক অমিত জানি ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের একটি অন্তর্বর্তী আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে। গত ২৭ জুলাই দেওয়া ওই আদেশে ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ ছবির টিজার ও সংশ্লিষ্ট প্রচারণার উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এসব উপকরণে বলিউড তারকা সালমান খানের ‘ব্যক্তিত্বের অধিকার’ লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে তাঁর ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

টিজার প্রকাশের পরই বিতর্কের সূচনা ঘটে। ১৭ জুলাই ছবিটির টিজার ও পোস্টার প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, পডকাস্টসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচার শুরু হয়। সালমানের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই প্রচারণায় তাঁর পরিচিতি ও ব্যক্তিত্বকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। মামলায় তিনি দাবি করেন, টিজারে ‘আয়ান খান’ নামে একটি কাল্পনিক চরিত্র তৈরি করা হলেও চরিত্রটির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তাঁকেই তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তাঁর অভিনীত ‘দাবাং’ ও ‘সিকান্দার’ সিনেমার প্রসঙ্গের পাশাপাশি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারসংক্রান্ত তাঁর দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিতও রয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

অমিত জানির আবেদনে বলা হয়েছে, টিজার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও সালমানের ব্যক্তিত্বকে ঠিক কীভাবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই। তাঁর যুক্তি, ব্যক্তিত্বের অধিকারকে যেন ‘ব্যক্তিগত সেন্সরশিপের’ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। জনপরিচিত কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে ঘটা এবং ইতিমধ্যে জনপরিসরে থাকা কোনো ঘটনা চলচ্চিত্রে তুলে ধরার পথ বন্ধ হলে তা সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। ভবিষ্যতে বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত আরও অনেক চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে বলেও প্রযোজকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ছবিটির গল্প ১৯৯৮ সালের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত বলে নির্মাতাদের দাবি। ছবির কাহিনিতে এক সুপারস্টারের বিরুদ্ধে চলা মামলা এবং সেটিকে ঘিরে আইনি লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। আদালতকেন্দ্রিক এই নাটকে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদসহ মামলার নানা দিক উঠে এসেছে। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে সালমান খানের বিরুদ্ধে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনা ঘিরে দীর্ঘ আইনি লড়াই ভারতের বিনোদন অঙ্গনে বহু বছর ধরেই আলোচিত। এবার সেই ঘটনার ছায়ায় নির্মিত সিনেমাই নতুন এক আইনি লড়াইয়ের জন্ম দিয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের আদেশে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেন কি না, এখন সেদিকেই নজর নির্মাতা ও সালমান—উভয় পক্ষের।