প্রতিসপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন কনটেন্ট। চলমান সপ্তাহের মুক্তিপ্রাপ্ত ও মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ওয়েব সিরিজ, সিনেমা, প্রামাণ্যচিত্র এবং রিয়েলিটি শোর বিস্তারিত তুলে ধরছে আমাদের নিয়মিত প্রতিবেদন।
অ্যানিমেশন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘টয় স্টোরি’ জুন মাসে বড় পর্দায় ফিরে এসেছিল। শৈশবের নস্টালজিয়া ও নতুন যুগের প্রযুক্তির দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত পঞ্চম কিস্তি প্রেক্ষাগৃহে দুর্দান্ত ব্যবসা করার পর এখন প্রাইম ভিডিওতে ঘরে বসেই উপভোগ করা যাচ্ছে। অস্কারজয়ী অ্যান্ড্রু স্ট্যান্টনের পরিচালনায় ছবিটিতে উডি, বাজ লাইটইয়ার ও জেসিকে ঘিরেই কাহিনি এগিয়েছে। তবে এবারের প্রতিপক্ষ কোনো দুষ্টু মানুষ বা খেলনা নয়—বরং প্রযুক্তি। গল্পে বনি নামের শিশুটির জীবনে হাজির হয় ট্যাবলেটের মতো দেখতে নতুন খেলনা লিলিপ্যাড, যা বাচ্চাদের খেলার ধরনই বদলে দিতে চায়। ফলে পুরোনো খেলনাগুলো নিজেদের জায়গা হারানোর শঙ্কায় পড়ে। খেলনার জগতে শুরু হয় প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের মধ্যে এক মজার লড়াই।
জি৫-এ এখন দেখা যাচ্ছে থালাপতি বিজয় অভিনীত ‘জন নায়গন’। নানা জটিলতার পর গত মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এই রাজনৈতিক অ্যাকশন ছবিটি পরিচালনা করেছেন এইচ ভিনোথ। কেভিএন প্রোডাকশনের ব্যানারে প্রযোজনা করেছেন ভেঙ্কট কে নারায়ণা। সিনেমায় বিজয় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ভেত্রি কোন্ডানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি বর্তমানে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত। বাইরে থেকে সাধারণ জীবন কাটালেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার পুরোনো স্বভাব তাঁর মধ্যে রয়ে গেছে। তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে দত্তক নেওয়া মেয়ে ভিজি, যাকে তিনি নিজের সন্তানের মতো বড় করেন। গল্পের মোড় ঘোরে যখন ভেত্রি এমন এক দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক ও অপরাধী চক্রের মুখোমুখি হন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ভয়ংকর অপরাধী জন হিমলার (ববি দেওল)। মুক্তির পর মাত্র দুই দিনেই ১০০ কোটি টাকা আয় করে ছবিটি ঝড় তুলেছিল। এটি বিজয়ের শেষ সিনেমা হিসেবে আলোচিত।
নেটফ্লিক্সে চলমান সুইডিশ ক্রাইম থ্রিলার সিরিজ ‘ব্লাড স্যাক্রিফাইস’ পাঁচ পর্বের। জর্জ কে সিরিজটি তৈরি করেছেন। স্টকহোম ও আশেপাশে ধারণকৃত এই নির্মাণে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যাকব অফটেব্রো; পাশাপাশি আছেন পিটার অ্যান্ডারসন। কাহিনিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর একের পর এক রহস্যময় খুন ঘটে। সেই হত্যাকারীকে ধরতে বহুদিনের দূরত্ব ভুলে বাবার সঙ্গে জোট বাঁধেন এক গোয়েন্দা। তদন্তের পাশাপাশি সিরিজটিতে বাবা-ছেলের জটিল সম্পর্কও গুরুত্ব পেয়েছে।
জিওহটস্টার ও এইচবিও-তে উপলব্ধ ‘ল্যান্টার্নস’ সিরিজটি গ্রিন ল্যান্টার্ন চরিত্রকে ঘিরে নির্মিত। সুপারহিরো গল্পের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন উপাদান—খুনের রহস্য, তদন্ত, অপরাধ এবং দুই প্রজন্মের দুই ল্যান্টার্নের জটিল সম্পর্ক। প্রধান দুই চরিত্রে আছেন কাইল চ্যান্ডলার ও অ্যারন পিয়ের, যারা মহাজাগতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী গ্রিন ল্যান্টার্ন কর্পসের সদস্য। নেব্রাস্কার একটি শহরে একটি মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেন হ্যাল ও জন। প্রথমে ঘটনাটি সাধারণ হত্যাকাণ্ড মনে হলেও তদন্ত যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয়—এই খুনের পেছনে এমন কিছু শক্তি কাজ করছে, যার প্রভাব পৃথিবীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলস্বরূপ সিরিজটি ধীরে ধীরে সাধারণ ক্রাইম থ্রিলার থেকে হয়ে ওঠে মহাজাগতিক ষড়যন্ত্রের গল্প।
এই সপ্তাহে দর্শকদের জন্য উল্লিখিত কনটেন্টগুলো ভিন্ন ভিন্ন ধারার বিনোদনের সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রতিটি নির্মাণই নতুন স্বাদের অভিজ্ঞতা দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।




