জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মুঠোফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার সূত্র ধরে পলাতক এক সাবেক সেনা কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায়ই শুধু দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে (৭৭) রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তদন্ত সংস্থা মাসুদ উদ্দিনের কল ডিটেইল রেকর্ড সংগ্রহ করে। সেখানে ২০২৩ সময়কাল থেকে বনানী ও মিরপুর ডিওএইচএসের কাছাকাছি একই অবস্থান থেকে বেশ কিছু মুঠোফোন নম্বরের মাধ্যমে মাসুদ উদ্দিনের সাথে সংক্ষিপ্ত ফোনালাপ ও খুদে বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য উঠে আসে। পরবর্তীতে যাচাই করে জানা যায়, এই সিমগুলো মিথ্যা পরিচয়ে নিবন্ধিত হয়েছিল।

যেহেতু তদন্ত দল ও প্রসিকিউশন এই নম্বরগুলোর ব্যবহারকারী কাউকে শনাক্ত করতে পারছিল না, তাই সন্দেহজনক নম্বরের তালিকাটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। পুলিশ তার নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা সূত্রের সহায়তায় নম্বরগুলোর পেছনের ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় উন্মোচন করে। ফলাফলে জানা যায়, ব্যক্তিটি আর কেউ নন, স্বয়ং পলাতক মোজাফফর হোসেন। এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেছেন, মোজাফফরকে চিহ্নিত করার মূল কাজটি পুলিশই সম্পন্ন করেছে, ট্রাইব্যুনাল তদন্ত দল কেবল সন্দেহজনক নম্বরগুলো শনাক্ত করে রেখেছিল।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে বনানীর একটি আবাস থেকে মোজাফফরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার পর আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনকে অবগত করা হয় এবং পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যথাবিধি আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রাসঙ্গিক যে, এর আগে গত ২৩ মার্চ রাতে বারিধারা ডিওএইচএসের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মাসুদ উদ্দিন। গত ৭ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেরও অনুমোদন করে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতের ইতিহাস অনুযায়ী, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল সেনা সদস্যের হাতে নিহত হন। সেই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের একজন হিসেবে মোজাফফর হোসেনের নাম উল্লিখিত রয়েছে। হত্যকাণ্ডের পরই তিনি ফেরার হন এবং তাঁকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। এতদিন পলাতক থাকা মোজাফফরের আচরণে প্রকাশ পায় হতাশা, আটক পরবর্তীকালে তিনি বলেন, ‘আমাকে দু-এক দিন পর রিমান্ডে দেওয়া হোক, আমার আর কুলাচ্ছে না।’