নিজেকে সাপুড়ে ও ‘বিষঝাড়া ওঝা’ পরিচয় দেওয়া কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্তান পাড়ার বাসিন্দা ইমরান হোসেন (৩৮) আবারও সাপ ধরার কাজে নেমে পড়েছেন। এর আগে একটি গোখরা সাপের কামড়ে তিনি আহত হয়েছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ভেড়ামারার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় এক বসতবাড়ি থেকে গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে কামড় দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন ইমরান। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকরা তাঁকে অ্যান্টিভেনম ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেন। তবে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি স্বেচ্ছায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ এ কে এম নুরুজ্জামান জানান, রাতের দিকে গিয়ে দেখা যায় ইমরান বিছানায় শুয়ে শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। আইসিইউতে ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই উল্লেখ করে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ইমরান নিজেও ছাড়পত্র নিতে আগ্রহী ছিলেন বলে জানান চিকিৎসক। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে তাঁকে ছেড়ে দেন। বাড়ি ফেরার পর ইমরান জানান, সাংবাদিকদের একই প্রশ্ন এবং কেউ কেউ তাঁকে ভণ্ড প্রমাণের চেষ্টা করায় তিনি হাসপাতাল ছাড়তে চেয়েছিলেন। বাড়ি ফিরেই তিনি ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রামে ছুটে যান। সেখানে এক ব্যক্তির বাড়ির শোয়ার ঘরে সাপের বড় খোলস পাওয়া গেছে বলে খবর পান তিনি। আশঙ্কা করছেন, সেখানে একটি বিষধর সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে। এ কারণে তিনি আবার সাপ উদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, ইমরান নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ ধরার ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি নিজেকে ‘বিষঝাড়া ওঝা’ দাবি করলেও সম্প্রতি নিজেই সাপের কামড় খেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান সাপে কাটলে ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।




