ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার উপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানটি বর্জন করে স্থানীয় বিএনপি। পরে দলটির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপিকে তো মানতে হবে মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে। বিএনপিকে এ কঠিন সত্যটা মেনে নিতে হবে।’
বুধবার উপজেলা পরিষদের হলরুমে জুলাই অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন না।
অনুষ্ঠান বর্জনের কারণ সম্পর্কে সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, রুমিন ফারহানা এমপি হিসেবে প্রশাসনের আমন্ত্রণ পেয়েছেন, কিন্তু দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাই তারা অনুষ্ঠানে যাননি।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকারে যদি দল (বিএনপি) বিশ্বাস করে, মানুষের পছন্দের প্রতি যদি আস্থা রাখতে হয়, আমরা যে গণতন্ত্রের কথা বলছি, সেটা যদি মানতে হয়, যাঁরা আজকে অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন, তাঁদেরকেও আমার বলতে হয়, মানুষের রায়ের প্রতি আপনারা শ্রদ্ধাশীল নন। তাহলে ১৭ বছর কিসের জন্য আন্দোলন করেছেন?’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাঁস প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন রুমিন ফারহানা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীকে পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলেও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই স্বতন্ত্র এমপি। তিনি বলেন, ‘আমরা কি সেই রকম একটা বাংলাদেশ রচনা করতে পেরেছি? আমরা কি সবার জন্য বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ—এ রকম একটা বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি? যদি তা না পারি, তাহলে এটি কি কেবল একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার? কিছু সুবিধাভোগীর পরিবর্তে নতুন কিছু সুবিধাভোগী তৈরি করার আন্দোলন ছিল? যদি তা–ই হয়, আট শতাধিক মানুষ কেন তাঁদের জীবন দিলেন? যদি তা–ই হয়, তাহলে কেন কয়েক হাজার মানুষ চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেল? আহত হলো, দৃষ্টিশক্তি হারাল। এটা তো হওয়ার কথা ছিল না।’
রুমিন ফারহানা আরও জানান, ৫ আগস্টের আগে তিনি রাস্তায় মেনেছিলেন, তার বাড়ি-গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের আমলে আমার বিরুদ্ধে ১০টা মামলা হয়েছে। হত্যা মামলাও হয়েছে। যদি ৫ আগস্টে এই গণ–অভ্যুত্থান সফল না হতো, আমি হলফ করে বলতে পারি, আজকে আমরা যাঁরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি, কথা বলছি–শুনছি, আমরা কেউ কিন্তু এই জায়গায় থাকতাম না।’ অনুষ্ঠানের শেষ অংশে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধান অতিথি রুমিন ফারহানা।



