ডিসি সিনেমাটিক ইউনিভার্সের উচ্চ প্রত্যাশিত ‘সুপারগার্ল’ ছবিটি মুক্তির পর বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি, আর এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন এক বিতর্ক। ডিসি অনুরাগীদের একাংশ অভিযোগ করছেন, ছবিটির প্রযোজনার সময় লোবো নামক চরিত্রটির জন্য এআই-প্রযুক্তিতে তৈরি কনসেপ্ট আর্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা তাদের কাছে হতাশাজনক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং ‘সুপারগার্ল’-এর বিরুদ্ধে অনলাইন ক্ষোভের জন্ম দেয়।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ছবিটির নির্মাণ পর্বে লোবোর চেহারা ও স্টাইল নির্ধারণে এআই-জেনারেটেড ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা পরে অনুরাগীদের নজরে এলে তারা ক্ষুব্ধ হন। অনুরাগীদের অনেকেই বলছেন, এআই-নির্মিত আর্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পী ও কনসেপ্ট ডিজাইনারদের কাজের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। ডিসি ব্র্যান্ডের ঐতিহ্য ও ভক্তদের প্রত্যাশার সাথে এই সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগগুলোতে আরও বলা হয়েছে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেছে, যা সৃজনশীল শিল্পে নতুন এক উদ্বেগের বিষয়। হলিউডের বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও, ডিসির মতো বড় স্টুডিওর ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপ ভক্তদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে সিনেমা নির্মাণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, যেখানে মানুষের সৃজনশীলতার বদলে মেশিনের ওপর বেশি নির্ভর করা হবে।

তবে এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা পরিচালকের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ‘সুপারগার্ল’-এর ব্যর্থতা এবং এই নতুন বিতর্ক ডিসি স্টুডিওর জন্য চাপ তৈরি করেছে, কারণ তারা আগামী দিনে একাধিক বড় বাজেটের ছবি মুক্তির পরিকল্পনা করছে। অনুরাগীদের এই ক্ষোভ প্রশমনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ডিসির ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এদিকে, কিছু অনুরাগী ছবিটির অন্যান্য দিক নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্যও করেছেন, তবে এআই বিতর্ক যেন সব আলোচনাকে ছাপিয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় #SupergirlAI এবং #BoycottSupergirl-এর মতো হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করছে, যা দেখে বোঝা যাচ্ছে দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ কতটা গভীর। ডিসি কর্তৃপক্ষ এখন সিদ্ধান্তের মোড়ে দাঁড়িয়ে, আর তাদের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিতর্কের সমাপ্তি হবে নাকি আরও প্রসারিত হবে।