মার্ভেল স্টুডিওর সর্বশেষ সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ দর্শক ও সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া কুড়িয়েছে। ছবিটি দীর্ঘদিন পর মার্ভেল সিনেমিনিক ইউনিভার্সের (এমসিইউ) সবচেয়ে শক্তিশালী ও পরিপাটি একটি সমাপ্তি টানতে সক্ষম হয়েছিল। গল্পের প্রয়োজনীয় সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি আবেগের যে গভীরতা শেষ দৃশ্যে ফুটিয়ে তোলা হয়, তা দর্শকদের মনে বিশেষ দাগ কাটার মতো ছিল। কিন্তু নির্মাতারা সেই নিখুঁত পরিণতি ধরে রাখতে পারেননি।
প্রতিবেদনটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ছবির মূল গল্প শেষ হওয়ার পর যে পোস্ট-ক্রেডিটস দৃশ্যটি (স্টিংগার) দেখানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন। এই অতিরিক্ত দৃশ্যটি পুরো সিনেমার সুরের সঙ্গে বেমানান। গল্পের যে আত্ম-উপলব্ধি ও মানসিক পরিপক্বতা প্রধান চরিত্র অর্জন করে, পোস্ট-ক্রেডিটসের হালকা মেজাজের দৃশ্যটি সেই অর্জনের গুরুত্বই কমিয়ে দিয়েছে বলে মত দিয়েছেন লেখক। ফলশ্রুতিতে, সিনেমাটি যে প্রশংসনীয় মাত্রা পেতে পারত, সেখান থেকে সরে এসেছে।
মার্ভেলের ছবিগুলোতে পোস্ট-ক্রেডিটস দৃশ্যের চল বহু পুরনো। এই কৌশল ভবিষ্যতের ছবির ইঙ্গিত দিতে বা রসিকতায় জমিন করতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন বলেই মনে হচ্ছে। হল থেকে বেরোবার সময় দর্শকদের মনে যে তৃপ্তির দোলা দেওয়ার কথা, এই বাড়তি অংশটি তার স্বাভাবিকতা নষ্ট করেছে। বরং শেষ দৃশ্যের পরপরই সিনেমাটি শেষ হলে সেটি মার্ভেলের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা সমাপ্তি হিসেবে স্বীকৃতি পেত।
উল্লেখ্য, ছবির শেষ দৃশ্যে পিটার পারকারের এক আবেগঘন সিদ্ধান্ত এবং তার চারিত্রিক বিবর্তনের ইঙ্গিত মিল। গোটা ছবি জুড়ে যে দ্বন্দ্ব চলে, তার নিষ্পত্তি খুবই চমৎকারভাবে দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে। কিন্তু পোস্ট-ক্রেডিটস দৃশ্যটি সেই ভাবনার গভীরতাকে আঘাত করেছ। সমালোচকদের দাবি, স্টুডিওর বিপণন কৌশল বা ভবিষ্যতের কনটেন্টের পূর্বাভাস দেওয়ার তাড়নায় এই ধরনের শিল্পসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। তবে এই সিনেমার ক্ষেত্রে তা ভালোর চেয়ে মন্দই বেশি করেছে।



