সনি পিকচার্সের নতুন সুপারহিরো সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ বক্স অফিসে রাজত্ব শুরু করেছে। স্টুডিওর রবিবারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ছবিটি উত্তর আমিরিকায় ৩৫৫ মিলিয়ন ডলারের টিকিট বিক্রি করে সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের রেকর্ড স্পর্শ করেছে। এটি ২০১৯ সালে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর ৩৫৭ মিলিয়ন ডলারের উদ্বোধনী রেকর্ড থেকে মাত্র ২ মিলিয়ন ডলার পিছিয়ে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ৭৩,৫০০-এর বেশি স্ক্রিন থেকে ছবিটি আয় করেছে ৫৭২ মিলিয়ন ডলার, যার এককভাবে চীনের অবদান ১২১ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বব্যাপী মোট ৯২৭ মিলিয়ন ডলারের আত্মপ্রকাশ ‘এন্ডগেম’-এর (১.২ বিলিয়ন ডলার) পরেই দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যান যাত্রা বরাবরই বিশাল সাফল্যের। তার তৃতীয় একক ছবি ‘নো ওয়ে হোম’ বৈশ্বিকভাবে ১.৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছিল, যা মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় ছাড়াই ইতিহাসের অষ্টম সর্বোচ্চ আয়ের চলচ্চিত্র।
‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-র এই বিজয় এমন এক সময়ে এসেছে যখন হল্যান্ড ও জেনডেয়া অভিনীত ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ তৃতীয় সপ্তাহান্তে ৫১ মিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। এই দুই ছবির সম্মিলিত শক্তিতে উত্তর আমিরিকার সিনেমা হলগুলো সর্বকালের সর্ববৃহৎ সপ্তাহান্তের রেকর্ড গড়েছে, যেখানে রেনট্রাকের তথ্য অনুযায়ী মোট টিকিট বিক্রির পরিমাণ আনুমানিক ৪৩০ মিলিয়ন ডলার।
ছবিটি প্রথম দিনেই রেকর্ড গড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৪,৪৮৭টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে শুক্রবার আয় হয় ১৬৮ মিলিয়ন ডলার, যা ‘এন্ডগেম’-এর ১৫৭ মিলিয়ন ডলারের শুরুর রেকর্ডকে ছাপিয়ে যায়। স্টুডিও পূর্বাভাস করেছিল উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে আয় ৩২৫ মিলিয়ন ডলার হতে পারে। উত্তর আমিরিকার সেরা উদ্বোধনীর তালিকায় ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর পর রয়েছে ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ (২৬০ মিলিয়ন, ২০২১), ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ (২৫৭ মিলিয়ন, ২০১৮) এবং ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’ (২৪৭ মিলিয়ন, ২০১৫)। ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত এই ছবির নির্মাণ ব্যয় ছিল রিপোর্টকৃত ২২৫ মিলিয়ন ডলার, যেখানে বিপণন ব্যয় ধরা হয়নি। আগের ছবিতে টোবি ম্যাগুইয়ার ও অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের মতো পূর্বতন অভিনেতাদের একত্রিত না করায় উদ্বেগ ছিল। কিন্তু বাস্তবে দর্শক আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। রটেন টম্যাটোতে ছবির স্কোর ৯০%, এবং দর্শকরাও সিনেমাস্কোরে ‘এ’ গ্রেড ও পোস্টট্র্যাকে পাঁচ তারকা রেটিং দিয়েছেন। পোস্টট্র্যাকের জরিপ বলছে, টিকিট ক্রেতার ৬১% পুরুষ এবং অর্ধেকের বেশি দর্শকের বয়স ২৫-এর নিচে, যার মধ্যে ৩৬% ছিলেন ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী। বক্স অফিস বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এন্টটেলিজেন্সের মতে, প্রায় ২৪.১ মিলিয়ন মানুষ এ সপ্তাহান্তে ছবিটি দেখেছেন। সনি পিকচার্সের চেয়ারম্যান টম রোথম্যান এক বিবৃতিতে ‘অতুলনীয় টম হল্যান্ড’-এর প্রংশা করেন।
মার্ভেল স্টুডিওর প্রেসিডেন্ট ও প্রযোজক কেভিন ফাইগি বলেন, “এই উদ্বোধনী মার্ভেল চরিত্রগুলোর স্থায়ী শক্তি এবং বিশ্বব্যাপী ভক্তদের সাথে তাদের সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।” প্রযোজক অ্যামি পাস্কাল যোগ করেন, “এটি প্রমাণ করে যে দর্শক দর্শনীয় ও গভীরভাবে মানবিক গল্পের জন্য ক্ষুধার্ত।” ‘এন্ডগেম’-এর পর থেকে সুপারহিরো ঘরানার মৃত্যু নিয়ে আলোচনা চললেও, ‘নোয়ে হোম’ ও ‘ডেডপুল & উলভারিন’-এর মতো ছবি ব্লকবাস্টার হওয়ার প্রমাণ দিয়েছে। রেনট্রাকের বাজার প্রবণতা বিভাগের প্রধান পল ডেরগারাবেডিয়ান মন্তব্য করেছেন, «স্পাইডার-ম্যান» প্রভাব গ্রীষ্মকালীন মৌসুমকে ২০২৩ সালের বারবেনহাইমারের পর প্রথমবারের মতো ৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রমে সহায়তা করতে পারে। তালিকায় শীর্ষে থাকা অন্যান্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘টয় স্টোরি ৫’ (৬.৩ মিলিয়ন ডলার), ‘মিনিয়নস অ্যান্ড মনস্টার্স’ (৫.৮ মিলিয়ন ডলার) এবং ‘মোয়ানা’ (৫.৩ মিলিয়ন ডলার)। ষষ্ঠ স্থানে থাকা ‘হ্যাডেসটাউন: দ্য মিউজিক্যাল’ ২ মিলিয়ন ডলার আয় করে ‘হ্যামিল্টন’-কে ছাড়িয়ে সরাসরি মঞ্চ ধারণের সবচেয়ে বড় রিলিজ হয়েছে।

