রুপালি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান বরাবরই প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিনোদন জগতের গ্ল্যামার আর ব্যস্ত সূচির বাইরে তাঁর সময় কাটে নিজ বাগানে। সেই বাগানেরই এক টুকরো ছবি সোমবার ফেসবুকে প্রকাশ করে ভক্তদের মুগ্ধতার ডালি আরও ভারী করেছেন তিনি। প্রকাশিত ভিডিওতে অভিনেত্রীকে হাতে কোদাল তুলে নিতে দেখা গেল।

রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে ৩০০ ফুট পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের ধারে নিজ বাংলোবাড়ির বাগানেই এ কাজ করছেন জয়া। দুই মিনিট ২৭ সেকেন্ডের এই ক্লিপটিতে দেখা যায়, কোনো প্রকার মেকআপবিহীন অবস্থায় অত্যন্ত সাদামাটা পোশাকে একজন সহকর্মীর সঙ্গে তিনিও কোদাল চালিয়েছেন। গোবর সারে মাটির তৈরি করার দীর্ঘ এই পরিশ্রম ফ্রেমবন্দি হয়। তার ফাঁকেই বাগানের বিভিন্ন গাছ দেখান তিনি। ক্যামেরায় ধরা পড়ে জবা, ঘুমন্ত জবা সহ একাধিক প্রজাতির ফুলের গাছ। নিন্দুকেরা হয়তো ভাবতে পারেন এসব কেবল প্রদর্শনীর উপকরণ, কিন্তু জয়া জানান, তিনি নিয়মিতই হাতে করে গাছগুলোর পরিচর্যা করেন।

সামাজিক মাধ্যমের প্রায়ই উন্মাতাল গতিময়তার প্রতিযোগিতায় এই ভিডিওটি এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই কন্টেন্টটি দেখেন প্রায় ৩০ লাখ দর্শক। রিয়েক্ট করেন প্রায় এক লাখ মানুষ, মন্তব্য করে অনেকে ও শেয়ার করেন প্রায় এক হাজারজন। ফেসবুক অনুসারীরা তার এই স্বাভাবিক জীবনচিত্র দেখে মুগ্ধত প্রকাশ করেছেন। একজন দর্শকের উচ্ছ্বসিত মন্তব্য, 'সবাই এখন আপনার অনুকরণে মাঠে নামবে।' আরেকজন আবেগাপ্লুত হয়ে লেখেন, 'বাস্তবিকই মাটিকে সব শিল্পী এত ভালোবাসেন না। আপনাকে দেখে সত্যিই অভিভূত হয়েছি। মাটির কাছাকাছি গেলে মনও উর্বর হয়ে ওঠে।' তাকে 'মাটির মানুষ' আখ্যা দিয়ে তৃতীয় আরেক ভক্তের উক্তি, 'মাটির সঙ্গে এ সম্পর্ক সত্যি ঈর্ষণীয়।'

রাজু আহমেদ নামের একজন মন্তব্যকারী তার ভালো লাগার কথা জানিয়ে লেখেন, 'প্রাচুর্য আর আধুনিকতার চাকচিক্যের ভিড়েও নিজের শিকড় আর মাটির সম্পর্ক ভুলে যাননি, এ কাজ দেখতে সত্যিই ভালো লাগে ও একে প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।' সাজিদুর রহমানের বক্তব্যে উঠে এসেছে কৃষিকাজের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, তিনি লেখেন, 'এতে একদিকে যেমন শরীরচর্চা হয়, তেমনি পাওয়া যায় নিজের উৎপাদন করা টাটকা সবজি। কৃষি মোটেই তুচ্ছ নয়; ইউরোপ-আমেরিকার বিত্তবানেরাও অনেকেই সখের বসে চাষাবাদ করে থাকেন।'

অনুরাগীরাও জয়া তার কাজ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এ ধরনেরই ছোটখাটো ব্যায়ামই যেন তার ফিটনেস চর্চার মূল মন্ত্র। জয়া আহসান এর আগে প্রথম আলোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, রেজিমেন্টেড জিমে যাওয়া তার স্বভাবে নেই। বরং নয়া কোনো চলচ্চিত্রের কাজ শুরুর আগে অল্প কিছুদিনের প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করেন। তার দীর্ঘমেয়াদী দর্শন হলো, প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্মই তার দেহচর্চা। আর এই বাগান করার শ্রমও যেন তারই এক জীবন্ত প্রতিফলন।