বিশ্বকাপের মাসে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ খেলা হিসেবে বিবেচিত হলেও, গলফ দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল ও অভিজাত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে টপগলফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডেভিড ম্যাককিলিপস এই ধারণা পাল্টে দিতে চান। ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া এই কর্মকর্তা মনে করেন, ক্লাব, বল ও ব্যয়বহুল মাঠের বাধা পেরিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানই হয়ে উঠতে পারে খেলাটির মূল প্রবেশপথ।
ম্যাককিলিপস ফরচুন ম্যাগাজিনকে জানান, টপগলফে শুরু করা কেউ একদিন প্রফেশনাল ট্যুরে জায়গা করে নিলে তিনি মোটেও বিস্মিত হবেন না। তাঁর ভাষায়, 'আমি দেখতে চাই, টপগলফ থেকে যাত্রা শুরু করা গলফাররা শেষ পর্যন্ত ট্যুরে পৌঁছায়। এটি দারুণ এক ঘটনা হবে।' তিনি দাবি করেন, পরবর্তী গলফ সুপারস্টার 'খুব সম্ভবত' এ পথ ধরেই আসতে পারেন এবং এটি তাদের ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি নতুন গলফার তৈরির অঙ্গীকারের অংশ।
এই অঙ্গীকারের পেছনে রয়েছে বাস্তব কর্মসূচি। টপগলফ সম্প্রতি ইয়ুথ অন কোর্স নামক একটি অলাভজনক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা ১৮ বছর বা তার কম বয়সী গলফারদের ভর্তুকিযুক্ত সুবিধা দেয়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সোম থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সদস্যরা মাত্র ৫ ডলারে বে-তে অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। ম্যাককিলিপস বলেন, 'এটি তাদের জন্য অনুশীলন ও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ, যা সবার জন্য উন্মুক্ত। দাম আর বাধা নয়, আমরা ক্লাব, বল ও প্রযুক্তি সরবরাহ করি এবং এটি খেলাটি শেখার এক অনাড়ম্বর পদ্ধতি।'
ম্যাককিলিপস এর আগে চাক ই. চিজ ও পিটার পাইপার পিৎজার মূল প্রতিষ্ঠান সিইসি এন্টারটেইনমেন্টের সিইও ছিলেন। মহামারির ধাক্কায় ২০২০ সালে দেউলিয়াত্ব সুরক্ষার আবেদন করলেও প্রায় এক বছর পর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ঋণমুক্ত হয়ে পুনরুত্থান ঘটিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। সেই অভিজ্ঞতাকেই তিনি টপগলফের রূপান্তরের নকশা হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে একই ভেন্যু বিক্রি হ্রাসের প্রেক্ষাপটে। তিনি মন্তব্য করেন, 'এই ব্যবসা অসাধারণ। আমাদের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজার আছে... গলফারদের ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি, এবং আমরা তা করছি নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে, আরও অনেক কিছু আসছে।'
গলফের ঐতিহ্যগত প্রবেশের বাধা — যেমন খরচ, সরঞ্জাম ও কান্ট্রি ক্লাবের সংস্কৃতি — দূর করাই টপগলফের লক্ষ্য বলে জানান ম্যাককিলিপস। বর্তমানে মাত্র ৩৫% গলফার টপগলফে যান, তবে কোম্পানির তথ্য বলছে, তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে আড়াই থেকে তিন মিলিয়ন নতুন গলফার তৈরি হয়েছে। নারী ও তরুণরা বর্তমানে গলফের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অংশগ্রহণকারী গোষ্ঠী। গত পাঁচ বছরে টপগলফে তরুণদের অংশগ্রহণ ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় গলফ ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে ৮.২ মিলিয়ন নারী অফ-কোর্স গলফ খেলেছেন, যা প্রতিনিধিত্বের নতুন রেকর্ড।
ম্যাককিলিপস যুক্তি দেন, টপগলফের মতো অফ-কোর্স ভেন্যুতে বল হিট করা কেউ, কখনো ক্লাব না ধরার তুলনায় প্রকৃত কোর্সে খেলার প্রতি পাঁচ গুণ বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এমনকি ব্ল্যাকস্টোনের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানও তরুণ অনুসারীদের কাছে পৌঁছাতে গলফার টমি ফ্লিটউডকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করেছে। ম্যাককিলিপস বলেন, 'গলফ ব্যয়বহুল হতে পারে। কিন্তু চার বা ছয়জনে টপগলফে এলে মাথাপিছু খরচ তেমন নয়। আমরা ক্লাব-বল দিই, নির্দেশক আছেন, আর এটি সামাজিক মেলবন্ধনের জায়গা।'
১০০টির বেশি অভ্যন্তরীণ ভেন্যু ও আন্তর্জাতিক অবস্থানসহ টপগলফের বিশালতা এটিকে গলফের মূল প্রবেশদ্বার করে তুলেছে বলে দাবি করেন সিইও। বোন প্রতিষ্ঠান টপট্রেসারের বল-ট্র্যাকিং প্রযুক্তি, যা পেশাদার গলফ সম্প্রচারে ব্যবহৃত হয়, প্রতিটি বে-তে সংযুক্ত। এটি নতুনদের ট্যুর-মানের শট বিশ্লেষণ দেখায়। ম্যাককিলিপস বলেন, 'সাধারণ ড্রাইভিং রেঞ্জে যা দেখা যায় না, তা দেখে মানুষ এসে রোমাঞ্চিত হয়।'
টপগলফ কেবল গলফ নয়, বরং এক সামাজিক মিলনস্থল হয়ে উঠতে চায়। ম্যাককিলিপস ব্যাখ্যা করেন, 'গলফ খেলতেই হবে এমন নয়; আপনি এসে স্পোর্টস বারে বিশ্রাম নিতে পারেন, বন্ধুদের সঙ্গে ডার্টস বা আর্কেড গেম খেলতে পারেন, পিকলবলও খেলতে পারেন।' কোম্পানির বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে নতুন আর্কেড, সদস্যপদ কর্মসূচি ও পিকলবলের সম্প্রসারণ আরও বেশি মানুষকে আকৃষ্ট করার পরিকল্পনার অংশ। লক্ষ্য একটাই — ড্রাইভিং রেঞ্জ থেকে সর্বোচ্চ ক্রীড়া, বিনোদন ও গলফের গন্তব্যে পরিণত হওয়া।

