মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে এর পরিধি বিস্তৃত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার কথা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সচিবালয় ভবনে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আয়োজনে তিনি এই ইঙ্গিত দেন।

সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা সংক্রান্ত জট নিরসনের স্বার্থে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কাঠামোকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে সরকার। এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় তৎপরতার পাশাপাশি, যেসব বেসরকারী সংস্থা দীর্ঘ মেয়াদে আইনি সাহায্য ও মধ্যস্থতা সংক্রান্ত কাজ করছে, তাদের সঙ্গে একটি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৪ সালে একটি প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে আইনি সহায়তা দানের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পরবর্তী সময়ে ২০০০ সালে তা একটি আইনের আওতাভুক্ত হয়। কালের পরিক্রমায় এই আইনটিকে বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করতে একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসনও এই ব্যবস্থাটির আধুনিকায়ন, জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং এর কার্যকারিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে লাগাতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আইনমন্ত্রী মনে করেন, আদালতের বাইরে বিকল্প পন্থায় মতপার্থক্য মীমাংসা করতে পারলে তা বিচার বিভাগের ওপর চাপ কমাবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই মিলিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে দেশের বিরোধ নিষ্পত্তির চিত্র বদলে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।