লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে মাদারীপুরের এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। নিহত সোহাগ মুনশির (২৪) পরিবারের অভিযোগ, মানবপাচার চক্রের দালালদের নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে। ছেলেকে হারিয়ে বিলাপ করছেন মা শাহিনুর বেগম। তিনি জানান, ধাপে ধাপে ৬০ লাখ টাকা নেওয়ার পরও আরও ২৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় দালালরা তার ছেলেকে হত্যা করেছে। তিনি সরকারের কাছে ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছেন।
মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভার মজুমদারকান্দি এলাকার বাসিন্দা সোহাগ মুনশি স্থানীয় দালাল ময়না আক্তারের প্রলোভনে পড়ে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর বাড়ি ছেড়ে তিনি প্রথমে ঢাকা হয়ে সৌদি আরব যান। সেখান থেকে তাকে লিবিয়ার বেনগাজিতে পাঠানো হয়। বেনগাজি পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালালরা তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাকে ত্রিপোলির একটি বন্দিশালায় আটকে রাখে। এরপর এক মাস পর থেকে শুরু হয় নির্যাতন। পরিবারের সদস্যরা দফায় দফায় মুক্তিপণ বাবদ ৩৮ লাখ টাকা দালালদের দিয়েছেন বলে জানান।
একপর্যায়ে সোহাগকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু দালালরা তাকে ফেরত পাঠাতে আরও ২৮ লাখ টাকা দাবি করে। তিন দিনের মধ্যে টাকা দিতে না পারায় তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত গত ২৪ জুলাই দালালদের বন্দিশালায় মারা যান সোহাগ। স্থানীয় দালালরা এই খবর গোপন রাখলেও লিবিয়ায় বসবাসরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মাধ্যমে বুধবার রাতে পরিবার বিষয়টি জানতে পারে।
নিহত সোহাগের ভাই সুজন মুনশি জানান, দালালদের সঙ্গে ২২ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে সাত থেকে আট মাস আটকে রাখা হয়। মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও তাকে ইতালি পাঠানো হয়নি, দেশেও ফেরত পাঠানো হয়নি। তিনি দালালদের বিচার দাবি করেন।
এদিকে রাজৈর থানার ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, সোহাগের মা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রধান অভিযুক্ত জুলহাস সরদারকে কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জুলহাস রাজৈর এলাকার শীর্ষ মানবপাচারকারী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।




