স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১-০ গোলে পরাজয়ের সাত দিন পর এক আবেগময় খোলাচিঠির মাধ্যমে নীরবতা ভাঙলেন আর্জেন্টিনা দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। সামাজিক মাধ্যমকে সাধারণত এড়িয়ে চলা এই কোচ নিজের মনের ভাব প্রকাশের জন্য ব্যতিক্রমী এই পন্থা বেছে নেন এবং গত কয়েক দিনে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত চিঠির প্রারম্ভে স্কালোনি গত এক আপেক্ষিক সময়কে ‘বিচিত্র অনুভূতির মিশ্রণ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি লেখেন, ‘দুঃখের সঙ্গে আনন্দ, কান্নার সঙ্গে হাসি, উৎকণ্ঠার সাথে স্বস্তি, আর স্নায়ুচাপের সাথে শান্তি—সবকিছুই একাকার হয়ে ছিল। এখন কিছুটা স্থির হয়ে কয়েকটি কথা লিখতে বসেছি।’ সাধারণত এমন প্ল্যাটফর্মে লিখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করলেও, ভক্তদের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটিকেই সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম বলে মনে হয়েছে তার।
ট্রফি না আনতে পারার আক্ষেপে তিনি সরাসরি সমর্থকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ‘সবার আগে শুধু এটুকুই বলতে চাই—দুঃখিত। আরেকটি ট্রফি এনে আপনাদের আনন্দ দিতে পারলাম না। যদি সেটা পারতাম, হয়তো অন্তত কয়েক দিনের জন্য হলেও জীবনের সব কষ্ট ভুলে থাকতে পারতেন।’ তবে দলের খেলোয়াড়দের প্রতি গর্ব প্রকাশ করে তিনি তাদের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে স্মরণ করতে বলেন। স্ত্রীর কাছেও তিনি এই খেলোয়াড়দের এই বিশেষণে ডাকতেন বলে উল্লেখ করেন।
চিঠির একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে তাদের প্রতি বার্তা ছিল যারা পুরো আসর জুড়ে দলকে সমালোচনা করেছ। স্কালোনি লিখেছেন, ‘যারা আমাদের একেবারেই চেনে না, তাদের নিষ্ঠুর সমালোচনাও মেনে নিতে হয়েছে। যখন শরীর আর সাড়া দেয় না, তখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার সংকল্পটাই আমাদের কাছে আসল ট্রফি।’ পাশাপাশি বিশ্বকাপে রেফারির সিদ্ধান্ত ন্যায্য ছিল বলেও নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন তিনি।
দলের সম্মিলিত প্রয়াসের কথা স্বীকার করে স্কালোনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তার কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়, এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি যারা নীরবে কাজ করে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
চিঠির একদম শেষে একটি ‘পুনশ্চ’ জুড়ে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘যার একজন আর্জেন্টাইন বন্ধু আছে, তার কাছে যেন এক অমূল্য সম্পদ আছে।’




