বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই সিজনাল সমর্থকের প্রতিক্রিয়া এখন ভাইরাল। এই দুই সমর্থক, একজন আর্জেন্টিনা ও অন্যজন ব্রাজিলের দূর্গ, পরস্পরবিরোধী দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যাচটির বিশ্লেষণ করেছেন।

ফাইনালে হারের পর এক আর্জেন্টিনার সমর্থকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলেন এবং সাক্ষাৎকারের শুরুতেই তিনবার উচ্চারণ করেন, 'সব দোষ ফিফার।' তার মতে, তার পরিবারের সদস্যরা এখন সারাদিন তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে, যা এ বয়সে সহ্য করা কঠিন। আর্জেন্টিনার পরাজয়ের কারণ হিসেবে তিনি কোনো খেলোয়াড়কে দায়ী না করে সরাসরি ফিফার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। তিনি রেফারিকে 'বেইমানের বেইমান' বলে অভিহিত করেন এবং খেলায় ধাক্কাধাক্কির জন্য লাল কার্ড প্রদানকে অযৌক্তিক আখ্যা দেন।
ফিফাকে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ফাইনালে এসেছিল কিনা—এমন প্রশ্নে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন এই সমর্থক। তিনি মেসিকে 'মানবদরদি' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মেসির টাকাপয়সার অভাব নেই এবং তিনি সবাইকে সাহায্য করেন। একজনের কাছ থেকে পাঁচ টাকা সাহায্য পেলে তার বিপদে খেয়াল রাখার দায়িত্ব তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্পেনের প্রথম গোলটি বাতিল প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওটি পুরোপুরিভাবে ফাউল ছিল। তার মতে, 'আট দিন ফুটবল শিখে' এত সহজে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী প্লেয়ারদের সামনে গোল দেওয়া সম্ভব নয়। পুরো ১২০ মিনিটে আর্জেন্টিনা একটি শটও নিতে না পারা প্রসঙ্গে তার ব্যাখ্যা ছিল, স্পেনের তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি করুণা করেই তারা গোল দেয়নি। বিশেষ করে ইয়ামালের প্রতি মেসির স্নের কারণেই এটি ঘটেছে, কারণ মেসিই তাকে 'হাতে ধরে বড় করছে'। বড় মনের পরিচয় দিতেই এমন আচরণ বলে দাবি করেন।

ব্রাজিল সমর্থকদের প্রতি তার বক্তব্য ছিল কটাক্ষপূর্ণ। তিনি বলেন, পাঁচটি বিশ্বকাপ জেতার গর্বে ব্রাজিলিয়ানরা মাটিতে পা ফেলে না, কিন্তু তারা নিজেরা টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বেই বিদায় নেয়। তিনি তেলাপোকাকেও পাখির সঙ্গে তুলনা করে তাদের প্রতিক্রিয়াকে অযৌক্তিক বলেন।

ইতিমধ্যে এক ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের সাক্ষাৎকারেও একই বিষয়গুলো সামনে আসে, তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে। ব্রাজিল জিতলেও তিনি এমন খুশি হতেন না বলে দাবি করে আর্জেন্টিনার পরাজয় নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তার মতে, 'চুরি করে ফাইনাল পর্যন্ত আসা'র দরুণ তাদের জয়ের সুযোগ ছিল না। ফিফাকে টাকা দেওয়ার অভিযোগকে সুস্থ মানুষের সাধারণ জ্ঞান বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, ছোট দলের সাথে সহজ গ্রুপিং এর মাধ্যমে ফাইনালে ওঠার পর কিস্তির টাকা দিতে না পারায় স্পেন জিতেছে।

ব্রাজিলের সমর্থক স্পেনের বাতিল গোলটি নিয়ে আর্জেন্টিনার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন এবং দাবি করেন রেফারিকে ভয় দেখিয়ে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছিল। ১২০ মিনিটে আর্জেন্টিনার একটি শটও নিতে না পারা নিয়ে তিনি ব্য ইত্ম। তিনি উপহাস করে জানান, স্পেনের গোলকিপারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দিন ছিল এটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলরক্ষকের ঘুমিয়ে পড়া এবং বিরতির সময় জুস খাওয়ার চিত্রও তুলে ধরেন।

পরিশেষে, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য তিনি পরামর্শ দেন, তাদের প্রতি চোখ রাখার কারণ, 'গভীর শোক কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে'। তবে তার মতে, লজ্জা থাকলে তাদের আর মাঠে আসা উচিত হবে না।