গণমাধ্যম নির্মাণ ও ভোগের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন প্ল্যাটফর্মগুলো এআই-নির্মিত বিষয়বস্তু শনাক্ত করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওয়াটারমার্ক এবং লেবেল ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এআই-জেনারেটেড কনটেন্টকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রসার সীমিত করতেও এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এআই-নির্মিত ছবি, ভিডিও এবং লেখাকে আলাদা করতে বিশেষ ধরনের ডিজিটাল স্বাক্ষর বা লেবেল যুক্ত করছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করা, যাতে তারা কোন কনটেন্টটি মানুষের তৈরি এবং কোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি, তা সহজেই বুঝতে পারে। পাশাপাশি, এআই-নির্মিত কনটেন্টের সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধ করাও এই পদক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই ওয়াটারমার্কিং প্রক্রিয়া কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এআই-নির্মিত কনটেন্টে ওয়াটারমার্ক থাকায় সেগুলোর নাগাল কঠিন হচ্ছে এবং কিছু প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কনটেন্টের নাগাল কমিয়ে দেওয়ার নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে, যেসব নির্মাতা তাদের কাজে এআই ব্যবহার করছেন, তারা নতুন এই নিয়মের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির এই সম্প্রসারণের যুগে কনটেন্টের উৎস ও সত্যতা যাচাই অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ওয়াটারমার্ক এবং লেবেল সেই যাচাই প্রক্রিয়ারই একটি ধাপ। তবে এ বিষয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বাকি, যেমন—ওয়াটারমার্ক কতটা কার্যকর হবে, এটি কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে এবং এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এআই-নির্মিত কনটেন্টকে সম্পূর্ণরূপে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে কি না।