কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই। তবে জনমনে প্রযুক্তি নিয়ে যে হতাশাবাদ তৈরি হয়েছে, তার জন্য তিনি নিজে বা অন্য কোনো নির্বাহী দায়ী নন বলেও মন্তব্য করেছেন তার।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক দীর্ঘ পোস্টে এআই নিয়ে নানা বিষয়ে কথা বলেন আমোদেই। সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকেন তিনি, তাই তার এই পোস্ট নজর কেড়েছে। পোস্টে তিনি প্রথমে এআই নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। তার মতে, এখানে একটি ভুল দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে—কেউ মনে করেন নিয়ন্ত্রণের ফলে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়, আবার কেউ মনে করেন ওপেন মডেলের মাধ্যমে প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিলেই তা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আমোদেই উল্লেখ করেন, আদালত ব্যবস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত করতে পারে। তবে তিনি জানান, অ্যানথ্রপিক এমন নীতির পক্ষে যা শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর গতি সীমিত করবে এবং ছোট প্রতিযোগীদের সুবিধা দেবে। তবুও তিনি স্বীকার করেছেন, কাঠামোগতভাবে এআই এমন একটি প্রযুক্তি যা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে সহায়তা করে। তবে তিনি মনে করেন, এর কারণ নিয়ন্ত্রণ নয় বরং এআইয়ের স্কেলিং আইন—যেখানে একটি মডেলের কর্মক্ষমতা তৈরি করতে ব্যবহৃত সম্পদের ওপর নির্ভর করে উন্নত হয়। ওপেন-ওয়েট মডেলগুলো কিছুটা ভালো, কিন্তু সেগুলোও ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে যাদের কাছে সবচেয়ে বেশি কম্পিউটিং ক্ষমতা ও চিপ রয়েছে তাদের হাতে।

তিনি লিখেছেন, "বিপরীতে, আমি মনে করি সঠিক 'আচরণবিধি' একসাথে (ক) এআইয়ের সাইবার/বায়ো/অ্যালাইনমেন্ট ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারে, (খ) প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোর ক্ষমতা সীমিত করতে পারে এবং (গ) ওপেন-ওয়েট মডেলের জন্য জায়গা রাখতে পারে, পাশাপাশি তাদের আনা নির্দিষ্ট ঝুঁকিগুলোও মোকাবিলা করতে পারে।" তিনি ফিনরা-জাতীয় একটি সংস্থা গঠনের সমর্থন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের এআই পরীক্ষার অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন।

পরে তিনি তার নিজের বক্তব্য সম্পর্কে বলেন, তিনি অতিরিক্ত নেতিবাচক ছিলেন না। তার লেখা প্রবন্ধগুলোতে প্রযুক্তির ঝুঁকি ও সুবিধা দুটোই সমানভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্লিপগুলো প্রায়ই ক্লিক পাওয়ার জন্য তার বক্তব্যকে অতিরিক্ত হতাশাবাদী হিসেবে চিত্রিত করে।

উল্লেখ্য, আমোদেই একসময় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এআই ৫০% হোয়াইট-কলার চাকরি ধ্বংস করতে পারে। তবে সম্প্রতি তিনি এই সতর্কতা কমিয়ে এনেছেন এবং বলেছেন এআই চাকরি ধ্বংসকারী নয়, বরং উৎপাদনের গুণক। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও একই ধরনের বার্তা দিয়েছেন, কারণ দুটি কোম্পানিই আইপিওর দিকে যাচ্ছে।

এক্স পোস্টে আমোদেই স্বীকার করেছেন যে জনগণের এআই সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা একটি বড় সমস্যা, তবে এর জন্য তিনি কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করেননি। তিনি বলেন, "আমি মনে করি এটি মূলত আস্থার সংকট। আমি মনে করি সাধারণ মানুষ কোম্পানি, সরকার বা প্রযুক্তি শিল্পকে বিশ্বাস করে না এবং সবসময় সন্দেহ করে যে আমরা তাদের ঠকানোর নতুন কিছু উপায় খুঁজছি।"

এই অবিশ্বাস কয়েক দশক ধরে রয়েছে এবং কোনো বিপণন প্রচারণা তা দূর করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বিজ্ঞাপনে বলা হলে যে এআই ক্যান্সার নিরাময় করবে, তা মানুষ প্রতারক বলে উড়িয়ে দেবে। "যা কাজ করবে তা হলো আসলে ক্যান্সার নিরাময় করা," যোগ করেন তিনি। "আমি মনে করি অ্যানথ্রপিকসহ এআই কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে সঠিক সমালোচনা হলো আমরা বিশ্বের উপকার করার বড় প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ করিনি।"

অ্যানথ্রপিক নিজে আস্থা উন্নত করতে এমন ফলাফল তৈরি করার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে আরও কাজ করে। সেখানে "আশ্চর্যজনক ফলাফলের প্রাথমিক আভাস" পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে প্রকৃত সাফল্য না আসা পর্যন্ত তিনি খালি প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে চলবেন এবং এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সৎ থাকবেন। তিনি বলেন, "সততা সঠিক পথ, এবং জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার দিক থেকে এটি ঝুঁকি উপেক্ষা বা এড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে খারাপ নয়, বরং ভালো হতে পারে—কারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বোঝে যে সেগুলো সত্য।"