ফরিদপুরের মাচ্চর ইউনিয়নের ধূলদী রেলগেট বাজারে ব্যাটারিচালিত রিকশা–ভ্যান শ্রমিকদের একটি কমিটি গঠন উপলক্ষে খিচুড়ি রান্নার আয়োজনকে ঘিরে পুলিশি হস্তক্ষেপে ছয় রিকশাচালক আটক হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা–ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের আঞ্চলিক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলাকালে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে ওই ছয়জনকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন মজিদ শেখ, হারুন শেখ, আনোয়ার মোল্লা, তার ভাই মনোয়ার মোল্লা, ইউসুফ শেখ ও তার ছেলে রহিম শেখ। তাদের ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, ওই স্থানে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শোক দিবস পালনের জন্য খিচুড়ি রান্না করা হচ্ছে—এই সন্দেহে তারা অভিযান চালায়। তবে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, আটক ব্যক্তিরা সবাই নিরীহ রিকশাচালক। তাদের আটকে রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে। তবে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
প্রায় দেড় বছর আগে গঠিত ফরিদপুর জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা–ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের আওতায় জেলার বিভিন্ন স্ট্যান্ডে আঞ্চলিক কমিটি গঠনের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে শহরের হাজি শরীয়তুল্লাহ বাজার, তিতুমীর বাজার, ভাসানচর, অম্বিকাপুর ও আলীপুরে কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। ধূলদী রেলগেট বাজারে শুক্রবার সেই ধারাবাহিকতায় নতুন কমিটি গঠনের আয়োজন করা হয়েছিল।
ইউনিয়নের আহ্বায়ক ছিদ্দিকুর রহমান জানান, তাদের সংগঠনটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়; এটি শ্রমিকদের অধিকার ও দাবি আদায়ের জন্য গঠিত। তিনি বলেন, পুলিশ এসে তাদের ছয়জন সদস্যকে অন্যায়ভাবে আটক করেছে। খিচুড়ির আয়োজনে পুলিশ আসার আগেই মুরগির মাংস ভুনা করা হয়েছিল এবং চাল-ডাল পরিষ্কারের কাজ চলছিল। পুলিশ গিয়ে ভুনা মাংস ফেলে দেয় এবং তেল, চাল ও ডালসহ অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যায়।
পুলিশের এই অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, একটি সাধারণ শ্রমিক সংগঠনের সামাজিক আয়োজনকে রাজনৈতিক চোখে দেখে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করা হয়েছে। আটকদের মুক্তির দাবিতে স্থানীয় শ্রমিক ও ইউনিয়ন নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনার পর থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এখনো নিশ্চিত নয়। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের সদস্যরা মুক্তি পাবেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।




