সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ ও দানবাক্স ৩৫ দিন পর খোলা হয়েছে। আজ শনিবার গণনা শেষে জানা যায়, এতে বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি ১৯টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও রূপাসহ নানা সামগ্রী পাওয়া গেছে। মোট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায় বলে জানান মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনার স্বচ্ছতা আনার জন্য গঠিত কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
সকাল ১০টায় মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়, যা শেষ হয় সন্ধ্যা ছয়টায়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, বাংলাদেশি ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা ছাড়াও যুক্তরাজ্যের ৩১ পাউন্ড ১১ পয়সা, ৩ হাজার ২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ ডলার, ১০০ নেপালি রুপিসহ মোট ১৯টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর বাইরে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণালংকার ও ১ ভরি ২ আনা রুপা মিলেছে। এছাড়া নজরানা হিসেবে কিছু গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিও জমা পড়েছে।
এর আগে ১১ জুলাই ও ২২ জুন দুই দফায় মাজারের আটটি ডেগ ও দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়েছিল। প্রথম দফায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল, যা ছিল মাত্র চার দিনের দান। ১৯ দিন পর দ্বিতীয় দফায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা পাওয়া যায়। এসব টাকা জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তখন তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকেলে পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কেউ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন, আবার অনেকেই প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। সরকারের একাধিক মন্ত্রী অবশ্য এই বদলিকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেন।
শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির উদ্যোগেই আজ দ্বিতীয়বার এবং ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো টাকা গণনার কাজ হয়। এর আগে ২২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে প্রথম দফায় টাকা গণনা করা হয়েছিল।




