জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সলিমুল্লাহ আবাসিক হলে প্রবেশ করা এক বহিরাগত কলেজশিক্ষার্থীকে মারধর এবং চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হলের একদল শিক্ষার্থী সন্দেহ করেছিল যে ওই তরুণ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। পরে তারা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কাছে হস্তান্তর করে। শনিবার দুপুরে হলের অতিথিকক্ষে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রটি মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখায় পড়ে এবং তার বাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন কাঠগড়া এলাকায়। জানা যায়, শুক্রবার রাতে সে পাশের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওবায়দুর রহমানের (রুশাদ) কক্ষে ছিল। শনিবার সকালে বাড়ি ফেরার পথে সলিমুল্লাহ হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে থামিয়ে পরিচয় জিজ্ঞেস করে। তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় তাকে সলিমুল্লাহ হলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাকে মারধর ও চুল কাটা হয়।
ঘটনার তাৎক্ষণিকভাবে মারধর ও চুলকাটায় জড়িতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। হলের শিক্ষার্থীদের দাবি, এর আগে ওই কলেজছাত্র হলের একটি কক্ষে গিয়ে নেশা করার জন্য গ্যাসলাইটার চেয়েছিল। পরে ক্যাম্পাসে তাকে দেখে বহিরাগত পরিচয় জেনে শিক্ষার্থীরা তাকে হলে নিয়ে মারধর করে।
নবাব সলিমুল্লাহ হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ইবনে শিহাব জানান, হলের কয়েকজন ছাত্র ওই ছেলেটিকে আটক করে তাকে খবর দেয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলেটির কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল এবং নেশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল। তিনি নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময়ই শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ একজন তার চুল কেটে দেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, পরিচিত এক ভাইয়ের মাধ্যমে রুশাদ ভাইয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং গত রাতে সে তার রুমেই ছিল। সকালে বাড়ি যাওয়ার পথে কয়েকজন তাকে ধরে সলিমুল্লাহ হলে নিয়ে যায়। তাদের অভিযোগ ছিল, সে গ্যাসলাইটার চেয়ে বেয়াদবি করেছে। এরপর তারা তাকে মারধর করে চুল কেটে দেয়।
চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওবায়দুর রহমান বলেন, পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই ছাত্রটি গত রাত দুইটার দিকে তার কক্ষে এসেছিল। সকালে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হলে পরে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন জানান, বহিরাগত এক শিক্ষার্থীকে আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা শাখার লোক ও সহকারী প্রক্টর পাঠানো হয়েছিল। হলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, ওই ছেলে নেশাগ্রস্ত ছিল। তাকে নিরাপত্তা শাখায় আনা হয়েছে এবং আগে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধ ছিল না। অভিভাবকরা এলে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কাউকে এভাবে ধরে চুল কেটে দেওয়া মূল্যবোধ ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী উল্লেখ করে প্রক্টর বলেন, এটি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত। হলের শিক্ষার্থীদের ডেকে এই মূল্যবোধের বিষয়টি তাদের উপলব্ধি করানো হবে বলে তিনি জানান।




