প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে জামিন দিয়েছেন আদালত। তবে আইনজীবীর বরাতে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় বর্তমানে তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারবেন না।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি শেষে এই রায় দেওয়া হয়। আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় দশ দিনের জন্য সাহেদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, বাদীপক্ষের সাথে আপসের শর্তে আদালত এই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘এই জামিনে তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। মামলাটি ২০২০ সালের ১৩ জুলাই করা হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময় আমরা মামলার বিষয়ে কোনো তথ্য জানতাম না। আজই এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। জেলখানায় থাকার পরও বাদী এই মামলার কথা জানায়নি।’
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে বাদী মো. সাইফুল্লাহ মাসুদ তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে সাহেদ করিমকে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করে আসছিলেন। প্রথম দিকে কিছু অর্থ নগদে পরিশোধ করা হলেও পরে চেকের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা হতো। একপর্যায়ে সাহেদ প্রাইম ব্যাংকের চারটি চেক দেন, যার মোট মূল্য ছিল এক কোটি টাকা। ব্যাংকে চেক উপস্থাপন করলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেগুলো ফেরত আসে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা চাইলে সাহেদ নানা অজুহাতে সময় নষ্ট করেন। ২০২০ সালের ২৬ জুন টাকা চাইতে গেলে তিনি অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। এরপর ২০২০ সালের ১৩ জুলাই ঢাকার আদালতে প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল্লাহ মাসুদ।
এর আগে চলতি বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা-পুলিশ। তারপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মোট ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।




