কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অবকাঠামো খাতের সম্প্রসারণ এখন আর শুধু সরাসরি বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করছে না। বরং অর্থায়নের ধরণে বড় পরিবর্তন এসেছে — বন্ড, লিজ এবং প্রাইভেট ক্যাপিটাল এখন এই খাতের প্রধান অর্থসংস্থানের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিনিয়োগের এই ঢল পরিমাপ করা যেমন কঠিন হচ্ছে, তেমনি বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকির স্তরও তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে, লিভারেজড বিনিয়োগকারীরা — যারা ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেন — তাঁদের অংশগ্রহণ এই খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে এআই অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল নতুন প্রকল্পগুলো যেমন দ্রুত এগোচ্ছে, অন্যদিকে বাজার স্থিতিশীলতার প্রশ্নে উদ্বেগও বাড়ছে। কারণ, এই ধরনের বিনিয়োগ বাজারের ওঠানামায় দ্রুত প্রভাবিত হয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থায়ন কাঠামোর স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বন্ড বা লিজের মাধ্যমে অর্থায়ন হওয়ায় অনেক সময় প্রকৃত ঋণের পরিমাণ বা দায় সহজে বোঝা যায় না। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এই খাতের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, এআই অবকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগ প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করলেও, এই ঋণনির্ভর প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, প্রযুক্তি খাতে মন্দা বা সুদের হার বৃদ্ধি পেলে লিভারেজড বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপ বেড়ে যেতে পারে, যা পুরো বাজার ব্যবস্থায় ধাক্কা দিতে সক্ষম।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন অর্থায়ন কৌশলগুলো এআই খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করলেও, এর সাথে যুক্ত ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, এই ভারসাম্যহীন অর্থায়ন কাঠামো আগামী দিনে বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলে — তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় কি না।