কর দাখিলের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও করদাতার আইনি দায়িত্ব শেষ হয় না। ভবিষ্যতে কর কর্মকর্তারা নিরীক্ষা চালালে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত উপস্থাপন করতে না পারলে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য সরবরাহ করলে পরবর্তী সময়ে আইনি ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয়।
বর্তমানে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মৌসুম চলছে। চলতি বছর থেকে করদাতারা বছরের যেকোনো সময়ই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিলে আয়করে বিশেষ ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়। একজন করদাতার আয় মোটামুটি সাতটি খাতে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি খাত থেকে অর্জিত অর্থ রিটার্নে দেখাতে হয়। নিজের ইচ্ছেমতো অঙ্ক বসানোর কোনো সুযোগ নেই; প্রতিটি টাকার আয় সুনির্দিষ্ট দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়।
চাকরিজীবী হলে বেতনের বিবরণী, পে স্লিপ এবং উৎসে কর কেটে রাখার সনদ—এই তিনটি দলিল গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি আয় প্রমাণে জমির দলিল বা লিজ দলিল, কৃষিপণ্য বিক্রয়ের চালান, কৃষি ব্যয়ের প্রমাণপত্র এবং প্রয়োজন হলে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী প্রস্তুত রাখতে হবে। ব্যবসা বা পেশাগত আয় থেকে অর্জনের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের হিসাব, ক্যাশবুক, লেজার, ব্যাংক বিবরণী, ট্রেড লাইসেন্স, ব্যবসার নিবন্ধনপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়), কেনাবেচার আলাদা হিসাব, ইনভয়েস ও ভাউচার এবং স্টক রেজিস্টার—সবকিছুই সংরক্ষণ করতে হবে।
বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়ের জন্য ব্যাংকের মুনাফার সনদ, এফডিআর সনদ, সঞ্চয়পত্রের তথ্য, লভ্যাংশের বিবরণী, শেয়ার বিও হিসাবের বিবরণী এবং মিউচুয়াল ফান্ডের বিবরণী প্রয়োজন। বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া থেকে আয়ের জন্য ভাড়া চুক্তিপত্র, ভাড়া গ্রহণের রসিদ, ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ, দলিল বা মালিকানার কাগজ, পৌরকর বা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ এবং দাবি করা হলে মেরামত ব্যয়ের প্রমাণপত্র রাখতে হবে। মূলধনি মুনাফার ক্ষেত্রে জমি, ফ্ল্যাট বা শেয়ারসহ অন্যান্য সম্পদ বিক্রির দলিল, ক্রয় ও বিক্রয় দলিল, নিবন্ধনের দলিল, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং উন্নয়ন ব্যয়ের প্রমাণপত্র—যদি থাকে—জমা দিতে হবে। অন্যান্য উৎস থেকে আয়, যেমন কমিশন, পরামর্শ ফি, লয়্যালটি, সম্মানী ও পুরস্কারের অর্থের বিপরীতেও সংশ্লিষ্ট সনদ বা দলিল প্রস্তুত রাখা আবশ্যক।
সব করদাতার জন্য সাধারণভাবে প্রয়োজনীয় দলিলের তালিকায় রয়েছে ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মুঠোফোন নম্বর ও ই-মেইল, প্রভিডেন্ট ফান্ডের তথ্য, দানের রসিদ এবং জীবনবিমার প্রিমিয়ামের রসিদ। এই নথিগুলো ছাড়া অনলাইনে রিটার্ন জমার সময় আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ করা সম্ভব হয় না। সুতরাং যথাসময়ে সব কাগজপত্র গুছিয়ে রাখলে রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া যেমন সহজ হয়, তেমনি ভবিষ্যতের যেকোনো কর নিরীক্ষায়ও স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা যায়।




