বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন ও ভোক্তাদের আচরণের রূপান্তরের ফলে কর্মক্ষেত্রের চাহিদা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণদের প্রস্তুত করতে একাডেমিক শিক্ষা ও বাস্তব কর্মজগতের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক স্নাতক শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, বেকারদের মধ্যে একটি বড় অংশই বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক। এ থেকে স্পষ্ট যে শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং ব্যবহারিক দক্ষতা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা তরুণদের আরও প্রস্তুত করতে পারে।
এই বাস্তবতা মাথায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাকে আরও ব্যবহারিক ও প্রাসঙ্গিক করার পাশাপাশি নিয়োগকর্তাদেরও তরুণদের শেখার যাত্রায় সক্রিয় অংশীদার হতে হবে। ইউনিলিভার বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিভা বিকাশকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির দর্শন অনুযায়ী, মানুষের উন্নয়নই টেকসই ব্যবসায়িক অগ্রগতির ভিত্তি। এই অঙ্গীকারের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো 'বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউএফএলপি ২০২৬'।
২০১০ সালে যাত্রা শুরু করা বিজমায়েস্ট্রোজ গত ১৬ বছরে শিক্ষার্থীদের বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এবারের আসরে এটিকে ইউনিলিভার ফিউচার লিডার্স প্রোগ্রামের (ইউএফএলপি) সঙ্গে একীভূত করে আরও সমন্বিত নেতৃত্ব বিকাশমুখী যাত্রা তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের থিম 'ডিসরাপ্ট টু উইন'—যা পরিবর্তনকে বোঝা, উদ্ভাবনকে গ্রহণ করা ও চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তরিত করার মানসিকতা তৈরি করে। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি লিডারশিপ ইনকিউবেশন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ধাপে ধাপে শেখা, প্রয়োগ ও মূল্যায়নের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান।
প্রোগ্রামটির নির্বাচন প্রক্রিয়াও অভিজ্ঞতাভিত্তিক। প্রাথমিক ধাপে ব্যক্তিগত আবেদন, অ্যাপটিটিউড মূল্যায়ন ও ডিজিটাল ইন্টারভিউর মাধ্যমে বিশ্লেষণী ও যোগাযোগ দক্ষতা যাচাই করা হয়। পরবর্তী ধাপে বুটক্যাম্পে অংশ নিয়ে ইউনিলিভারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ভোক্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাজারের পরিবর্তন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করেন তারা। ডিসকভারি সেন্টারের মতো ধাপগুলোতে দলগত কাজ, সমস্যা বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হন অংশগ্রহণকারীরা। সর্বশেষ ধাপে বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত কেস উপস্থাপনার মাধ্যমে শেখা ও প্রয়োগের সমন্বয় ঘটে।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে 'লার্ন টু লিড' ক্যাম্পাস রোড শো পরিচালিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ওয়েবিনারের মাধ্যমেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ প্রসারিত করা হয়েছে। ইউনিলিভার বাংলাদেশের হিউম্যান রিসোর্স ডিরেক্টর সৈয়দা দুরদানা কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা ও ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
ইউনিলিভারকে কর্পোরেট জগতে 'স্কুল অব লিডার্স' হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যার পেছনে রয়েছে প্রতিভা বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এই বিকাশ প্রক্রিয়া শিক্ষাজীবন থেকেই শুরু হয়, যেখানে বিজমায়েস্ট্রোজের মতো প্ল্যাটফর্ম তরুণদের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে এবং তাদের নেতৃত্বের যাত্রার ভিত্তি তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা শুধু কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত নয়, বরং পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে সম্ভাবনা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সৃজনশীলতার কোনো ঘাটতি নেই; এখন প্রয়োজন সঠিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সংযোগ। 'বিজমায়েস্ট্রোজ এক্স ইউএফএলপি'-এর মতো উদ্যোগ সেই সংযোগ তৈরির প্রচেষ্টা, যেখানে তরুণেরা শেখার, নিজেদের যাচাই করার ও ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পায়।




