আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শুরু হয়েছে, এবং এখন থেকে পুরো বছরব্যাপী অনলাইনেই রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর সংখ্যা সোয়া এক কোটিরও বেশি। আগের মেয়াদে প্রায় ৪৭ লাখ টিআইএনধারী অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনেকেই ধারণা করেন, রিটার্ন জমা দিলেই হয়তো কর বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন তোলা হবে না বা ফাইল নিরীক্ষার আওতায় আসবে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করছেন, যেকোনো করদাতার নথিই নিরীক্ষা হতে পারে, ফলে রিটার্নে দেওয়া প্রতিটি তথ্যের শুদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি।

কর কর্মকর্তা, আইনজীবী ও কর বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর রিটার্ন জমার সময় কিছু ত্রুটি বারবার পরিলক্ষিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে বিব্রতকর ব্যাখ্যা প্রদানের দাবি ও কর নির্ধারণে সংকট ডেকে আনে। এ ধরনের জটিলতা এড়াতে বিশেষজ্ঞরা ১০টি সাধারণ ভুল চিহ্নিত করেছেন।

প্রথমত, সিটি করপোরেশন বা পৌরসভাসহ যেকোনো এলাকার ফ্ল্যাট বা জমির মতো স্থাবর সম্পত্তির সঠিক বিবরণ ফিরতে অন্তর্ভুক্ত না করাই একটি বড় ধরনের ত্রুটি। এতে করদাতার প্রকৃত সম্পদের চিত্র স্পষ্ট হয় না। দ্বিতীয় ভুলটি হলো বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পাওয়ার জন্য বিনিয়োগ হিসাবটি ভুল দর্শানো। এর ফলে কর পরিমাণে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কম-বেশি হয়ে যায়। তৃতীয়ত, মোট আয়ের সাথে সাঙস্যমতহীনভাবে অত্যধিক খরচ দেখানোর প্রবণতা আছে, যা আর্থিক তথ্যের সচ্ছতা নিংিয়ে প্রশ্ন তোলে।

আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক অথবা অতিরিক্ত নগদ অর্থের পরিমাণ দেখানোও চতুর্থ একটি সাধারণ ভুল। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আয়ের সঙ্গতির বিবেচনা করেই নগদ অর্থ উল্লেখ করতে হবে। পঞ্চমত, সোনার অলংকারের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত পরিমাণ দর্শানো হয়, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। উদাহরণ হিসেবে তারা বলছেন, কেউ কেউ ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার দেখান, অথচ এই পরিমাণণ স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটিহ টাকার ওপরে। এত মূল্যের সম্পদ ধরে রাখার মতো আয় আদৌ আছে কি না, সে নিয়ে ভাবা দরকার।

ষষ্ঠ ভুলটি হলো সঞ্চয়, প্রদত্ত ঋণ অথবা গৃহীত ঋণের তথ্যপূর্ণাঙ্গভাবে না দেওয়া। রিটার্নে ঋণের তথ্য বাধ্যতামূলক, না হলে ওই টাকার উৎস নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে। সপ্তভুলটি হচ্ছে উপহার, অনুদান বা অন্য কোনো বৈধ প্রাপ্তির কথা গোপন রাখা, যা সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অষ্ঠম ত্রুটিটি দেখা যায় স্থায়ী আমানত, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য আর্থিক বিনিয়োগের বিবরণ বাদ পড়ায়। নবম ভুলটি পূর্ববর্তী আর্থিক বষরের নিট সম্পদের তথ্যের ভুল উপস্থাপনা। এবং শেষ ভুলটি হলো উৎসকৃত কর্তিত করের তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণভাবে দেওয়া অথবা প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও বেশি কর সমন্বয়ের দাবি জানানো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরামর্শ দিয়েছেন, রিটার্ন দাখিলের আগে আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় ও কর পরিশোধের সব তথ্য ও প্রামাণ্য নথি সতর্কতার সাথে মিলিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একটি শুদ্ধ, পূর্ণাঙ্গ ও আইনসম্মত রিটার্ন ভবিষ্যতের যেকোনো অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে সহায়তা করবে।