বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করার পর গ্যালারি থেকে সমর্থকদের ছোঁড়া একটি ব্যানার হাতে তোলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল 'লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস', যার বাংলা অর্থ 'মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার'। এই ব্যানারটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব দাবির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ঘটনাটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা ফিফার কাছে তদন্তের আহ্বান জানানোর পর সংস্থাটি নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করে।

বৃহস্পতিবার ফিফার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 'ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি বর্তমানে ম্যাচের প্রতিবেদনগুলো মূল্যায়ন করছে এবং ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ভিত্তিতে পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করছে।' এই ব্যানার নিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা দ্বীপটির দখল নিলে পাল্টা আঘাত হানে ইংল্যান্ড। রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধের পর দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইংল্যান্ড, যা আজও আর্জেন্টাইনদের কাছে দগদগে এক স্মৃতি। তাদের দাবি, মালভিনাস এখনো তাদেরই।

ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে খেলোয়াড়রা কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, বক্তব্য বা ছবি প্রদর্শন করতে পারেন না। সেই কারণে ম্যাচ শুরুর আগেই ফিফা ফকল্যান্ডের পতাকা মাঠে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে কোনো এক ফাঁকে ব্যানারটি গ্যালারি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সাধারণত ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক কোনো স্লোগান বা বক্তব্য প্রদর্শন করলে ফিফা জরিমানা আরোপ করে থাকে। জরিমানার পরিমাণ ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট খেলোয়াড় জড়িত থাকলে তাদের নিষিদ্ধও করা হতে পারে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ফিফা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।