যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শুক্রবার ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফা কর্মকর্তাদের সাথে এক সংবর্ধনায় মিলিত হবেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এরপর রোববার বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন তিনি। লেভিটের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের এই উপস্থিতি ‘মার্কিন ইতিহাসের সর্বাধিক দেখা, সবচেয়ে নিরাপদ ও সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপের’ সমাপ্তি টানবে।

আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির মুখোমুখি হবে স্পেন ও লামিন ইয়ামাল। এই লড়াইটি নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। টিকপিকের তথ্যমতে, চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচটির টিকিটের গড় মূল্য ১১ হাজার ৩২৭ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্ট হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জহরান মামদানিও এই ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি ভালো ম্যাচের জন্য তিনি উত্তেজিত’, যদিও তার সমর্থিত সব দলই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে। জনপ্রিয় লাইভস্ট্রিমার ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যিনি আইশোস্পিড নামে পরিচিত, বিশ্বকাপ স্ট্রিমিং সিরিজের অংশ হিসেবে মাঠে হাজির হবেন। তার কিছু অনুষ্ঠান ফক্স স্পোর্টসে সম্প্রচারিত হয়েছে। ফাইনালের সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন পোস্ট ম্যালোন, টম ক্রুজ, লরা পাউসিনি, রবি উইলিয়ামস ও নিকোল শেরজিঙ্গার। জেনিফার হাডসন রোববার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবেন। উপস্থিতি নিশ্চিত না হলেও হাভিয়ের বার্দেম ও পেনেলোপে ক্রুজ (বার্দেম স্পেনের একাধিক ম্যাচে এসেছেন), ডেভিড ও ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম (যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে দেখা গেছে) এবং রায়ান রেনল্ডস (ওয়েলশ ক্লাব রেক্সহ্যামের সহ-মালিক) এর মতো সেলিব্রিটিদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ডেভিড বেকহ্যাম মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামির মালিক, যেটি ২০২৩ সালে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে সই করিয়েছিল।

গত বছর ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফা একটি অফিস খোলে এবং এরিক ট্রাম্পের সাথে ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি উন্মোচন করে। যুক্তরাষ্ট্রে ফিফার দুটি অফিসের মধ্যে এটি একটি। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকে শুরু হওয়া ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনোর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এটি আরও দৃঢ় করেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে এই বন্ধুত্ব নিবিড়ভাবে নজরদারির আওতায় এসেছে, কারণ ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফ্যান্টিনোকে ফোন করে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লালকার্ড ও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। অপ্রত্যাশিতভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয় এবং বালোগান বেলজিয়ামের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে অংশ নিতে পারেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র লজ্জাজনকভাবে ৪-১ গোলে হেরে যায়। আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের এই ফোন কলকে কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হয়েছে। ফিফার বিরুদ্ধে একটি অস্পষ্ট নিয়ম উল্লেখ করে নিষেধাজ্ঞা পরিবর্তনের এবং যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। বালোগান ওই পরাজয়ের পর বলেন, এই পরিস্থিতি ‘অনেক বাহ্যিক শব্দ’ সৃষ্টি করেছে এবং দলের মধ্যে ‘কিছুটা নার্ভাসনেস’ তৈরি করেছে।