আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। ফিফা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে ম্যাচ কর্মকর্তাদের নাম ঘোষণা করে। এই ৪৬ বছর বয়সী রেফারি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
মাঠে ভিনচিচের সহায়তা করবেন তাঁর স্বদেশি তোমাজ ক্লানচনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচিচ। চতুর্থ রেফারি হিসেবে থাকবেন জর্ডানের আধহাম মাখাদমেহ এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাতারের মোহাম্মদ আলকালাফ।
ভিনচিচের রেফারিং ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১০ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে। এরপর দেড় দশক ধরে তিনি ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বড় প্রতিযোগিতায় বাঁশি বাজিয়ে আসছেন। ক্লাব ফুটবলে ২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মধ্যকার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
ফিফা বিশ্বকাপে ভিনচিচের অভিষেক হয় ২০২২ সালে কাতারে। সেবার তিনি দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। এবারের আসরে এরই মধ্যে তিনটি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল-মরক্কো ও জর্ডান-আলজেরিয়া এবং শেষ বত্রিশে মেক্সিকো-ইকুয়েডরের ম্যাচ ছিল তাঁর অধীনে। সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল হবে তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং চলতি আসরের চতুর্থ।
আর্জেন্টিনার ম্যাচে ভিনচিচকে এখন পর্যন্ত একবারই দেখা গেছে। সেটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে ৩৬ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড হারিয়েছিল লিওনেল মেসির দল। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের জন্য পেনাল্টি দিয়েছিলেন ভিনচিচ, যেখান থেকে গোল করেছিলেন মেসি। ম্যাচটিতে সৌদি আরবের ছয় খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখলেও আর্জেন্টিনার কেউ দেখেননি।
স্পেনের সঙ্গেও ভিনচিচের পরিচয় বেশ পুরোনো। ২০১৭ সালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে শুরু। এরপর ২০২০ ইউরোয় স্পেন-সুইডেন ম্যাচ এবং ২০২৩ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেন-ইতালি ম্যাচও পরিচালনা করেন তিনি। লামিনে ইয়ামালের সঙ্গেও তাঁর দুটি স্মরণীয় ম্যাচ আছে। ২০২৪ ইউরোয় ইতালির বিপক্ষে স্পেনের ১-০ ব্যবধানে জয় এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচের বাঁশি ছিল ভিনচিচের হাতে। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই ম্যাচেই দুর্দান্ত দূরপাল্লার গোলে আলোচনায় এসেছিলেন ইয়ামাল।
বিশ্বকাপের রেফারি নির্ধারণের প্রক্রিয়া ফিফার নিজস্ব নীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যেখানে রেফারির অভিজ্ঞতা, পারফরম্যান্স ও নিরপেক্ষতা বিবেচনায় নেওয়া হয়।



