বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে উইপ্রো জিই হেলথকেয়ার। প্রতিষ্ঠানটি ‘হেলথ এক্সপ্রেস’ নামের একটি কর্মসূচি চালু করেছে, যার আওতায় উন্নত আলট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি সরাসরি মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য—যেসব শহর ও অঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ও প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে, সেখানে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির সুবিধা সহজলভ্য করা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

হেলথ এক্সপ্রেস কর্মসূচির আওতায় কার্যকর যন্ত্রপাতির সরাসরি প্রদর্শনী এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে চিকিৎসকেরা সর্বাধুনিক আলট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন, যা রোগনির্ণয়ের নিখুঁততা বাড়াবে এবং ক্লিনিক বা হাসপাতালের কার্যক্রমকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে সহায়তা করবে। বগুড়া থেকে এই কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়েছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের ২০টির বেশি জেলায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রচারণার অংশ হিসেবে উইপ্রো জিই হেলথকেয়ার তাদের সর্বাধুনিক আলট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রোডাক্ট ডেমো ও শিক্ষামূলক অধিবেশনের আয়োজন করবে। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একত্র করে স্বাস্থ্যসেবা খাতের মূল চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করা হবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

উইপ্রো জিই হেলথকেয়ারের আলট্রাসাউন্ড বিভাগের বিজনেস হেড অনুপ কুমার রামচন্দ্রন বলেন, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি অধিকার। হেলথ এক্সপ্রেস কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা সরাসরি মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, যার ফলে সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আধুনিক আলট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাথমিক ধাপে রোগনির্ণয়ের সুবিধা তুলে ধরে চিকিৎসকদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সবার জন্য সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে তারা। রোগীর সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সঠিক জ্ঞান দিয়ে সাহায্য করা হচ্ছে চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষকে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির আধুনিকীকরণের পাশাপাশি শিক্ষা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা জোরদার করার প্রতিশ্রুতিই প্রকাশ পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চিকিৎসকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এই কর্মসূচি আধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তির বিস্তার ঘটাতে এবং একটি বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা খাত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।