মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে প্রথম বৈদ্যুতিন চিঠি বা ই-মেইল পাঠানোর ঘটনাটি আজ ৩৫ বছর পূর্ণ করল। ১৯৯১ সালের এই দিনে (৯ আগস্ট) নাসার অ্যাটলান্টিস স্পেস শাটলে অবস্থানরত নভোচারীরা এই ঐতিহাসিক কৃতিত্ব অর্জন করেন। ম্যাকিনটোশ পোর্টেবল কম্পিউটারের অ্যাপললিংক প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল সেই বার্তা।

সেদিন নভোচারী শ্যানন লুসিড ও জেমস সি অ্যাডামসন জেনসন স্পেস সেন্টারের মার্শিয়া আইভিন্সকে একটি বার্তা প্রেরণ করেন। ‘হ্যালো পৃথিবী! এসটিএস-৪৩ ক্রু সদস্যদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা...’ দিয়ে শুরু হওয়া বার্তায় তারা উল্লেখ করেন, এটি মহাকাশ থেকে পাঠানো প্রথম অ্যাপললিংক বার্তা। মজার ছলে তারা ক্রায়ো (ক্রায়োজেনিক কুল্যান্ট) ও আরসিএস (থ্রাস্টার জ্বালানি) পাঠানোর অনুরোধও জানান। আর শেষে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা হয় ‘হাসতা লা ভিস্তা, বেবি’, যা বিখ্যাত টার্মিনেটর সিনেমার একটি জনপ্রিয় সংলাপ।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ই-মেইল প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হলেও মহাকাশ থেকে তা ব্যবহার করতে আরও দুই দশক সময় লেগেছিল। এই অসাধারণ ঘটনাটিকে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে মহাকাশ থেকে পাঠানো প্রথম ই-মেইল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মাইক্রোগ্র্যাভিটি ও কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত একটি গবেষণা সিরিজের অংশ হিসেবেই এই ই-মেইল প্রেরণের কাজটি সম্পন্ন হয়েছিল।

সেসময় অ্যাপলের এক প্রজেক্ট ম্যানেজার জানিয়েছিলেন, বার্তাটি সফলভাবে পাঠানোর আগে দুইবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে ই-মেইল ব্যবস্থা জনপ্রিয়তা লাভ করলে স্পেস শাটলের নভোচারীরা তাদের ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল ই-মেইল দেখার সুযোগ পান। নাসা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মিশন চলাকালীন নভোচারীদের সঙ্গে ডেটা ফাইল বিনিময় করত। তবে এই সুবিধা সবসময় চালু থাকত না; শাটলের অ্যান্টেনা ও মিশন কন্ট্রোলের মধ্যে স্যাটেলাইট সংযোগ সক্রিয় থাকা অবস্থায়ই কেবল বার্তা আদান-প্রদান সম্ভব হতো। ফলে নভোচারীরা দিনে মাত্র কয়েকবার, প্রতিবার আধা ঘণ্টার জন্য ই-মেইল পাঠানোর সময় পেতেন।

সেসময় ই-মেইল চেক করার পদ্ধতিও ছিল ভিন্ন। ল্যাপটপে আউটলুক খুলে বার্তা টাইপ করতে হতো, আর স্প্যাম মেসেজের কোনো চিন্তাই ছিল না, কারণ মিশন চলাকালে শুধুমাত্র অনুমোদিত একটি তালিকার ব্যক্তিরাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) প্রথম ইন্টারনেট সংযোগ চালু করে নাসা। হিউস্টনের একটি গ্রাউন্ড কম্পিউটারের মাধ্যমে স্যাটেলাইট লিংকে এই সংযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে নভোচারীরা ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও কনফারেন্স এবং ই-মেইল বিনিময় করতে সক্ষম হন। তবে মহাকাশ স্টেশনের ইন্টারনেট সংযোগ নিয়মিত যোগাযোগ চ্যানেলের ওপর নির্ভরশীল। তাই স্টেশনটি যখন এক স্যাটেলাইটের সীমা ছাড়িয়ে আরেক স্যাটেলাইটের আওতায় যায়, তখন প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে।

মহাকাশ স্টেশনে ই-মেইল এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয়; প্রযুক্তিগত কাজেও এর ব্যবহার রয়েছে। ২০১৪ সালে এক বিশেষ রেঞ্চের প্রয়োজন হলে পৃথিবী থেকে রকেটে পাঠাতে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতো। তখন পৃথিবীর প্রকৌশলীরা থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের একটি নকশা ই-মেইল করে মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়ে দেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নভোচারীরা থ্রিডি প্রিন্টারে রেঞ্চটি তৈরি করে নেন। সূত্র: কম্পিউটিং হিস্টোরি