সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক মর্মান্তিক ঘটনায় থানায় ধর্ষণের মামলা করার জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম কলিমুল্লাহ। তার নিজের বড় ভাই ও ভাতিজারাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে কলিমুল্লাহর মেয়েকে তার বড় ভাই ছয়ফ উল্লাহর ছেলে ধর্ষণ করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একাধিকবার সালিসও বসে। তবে সালিসের পরও অভিযুক্ত যুবককে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে কলিমুল্লাহর স্ত্রী থানায় গিয়ে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
মামলা করার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য কলিমুল্লাহর সাথে গ্রামে আসেন পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও দুইজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সদস্যরা ফিরে যাওয়ার সময়ই কলিমুল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও কলিমুল্লাহর আরেক ভাই আবদুল আজিজের বরাত দিয়ে জানা যায়, পুলিশের চোখের সামনেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ চাইলে এই হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে পারত।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবদুল গফুর বলেন, পুলিশের সামনেই হামলায় খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় লোকজনের কাছে তিনি শুনেছেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এসআই নাইমুল হাসান জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে খুন হয়েছে — এমন দাবি সত্য নয়।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়লের বরাত দিয়ে জানা যায়, ধর্ষণের মামলার পর পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফিরছিলেন। তার ১০ মিনিট পর হত্যার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে। নিহত কলিমুল্লাহর মেয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে তার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে — এমনটাই জানা গেছে।




