নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের একটি দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের পাল্টা গুলিতে জসিম (২৪) নামে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর রেলস্টেশনের পাশে আরবান স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জসিমসহ মোট দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়েছে। এ অভিযানের সময় পুলিশের তিন সদস্যও আহত হয়েছেন।
আহত পুলিশ সদস্য ও গুলিবিদ্ধ জসিমকে শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন ইসদাইর এলাকার রেজ্জাক বাহিনীর প্রধান রেজ্জাকের ছেলে জসিম এবং একই এলাকার আবদুস সালামের ছেলে মোহন (২৩)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দুজনই মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইসদাইর রেলস্টেশনের পাশে আরবান স্কুলের সামনে সাত থেকে আটজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায় ফতুল্লা থানা-পুলিশের একটি দল। এ সময় অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা কয়েকটি গুলি ছোড়ে। ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিক ও নন্দন চন্দ্র সরকার আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আটটি গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে জসিমের উরুতে গুলি লাগে। পরে তাকে আটক করার পাশাপাশি মোহনকেও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে এক অস্ত্রধারী উরুতে গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ২ এপ্রিল ইসদাইরের ৫২ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫৩টি গুলিসহ রেজ্জাক বাহিনীর প্রধান রেজ্জাক ও তার ছেলে ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রেজ্জাকের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, মাদক, চাঁদাবাজিসহ ১২টি মামলা রয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা করে। বর্তমানে রেজ্জাক জামিনে থাকলেও তার ছেলে ওয়াসিম কারাগারে রয়েছেন।




