দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বড় পর্দায় ফিরছে জনপ্রিয় সুপারহিরো স্পাইডার-ম্যান। আন্তর্জাতিক মুক্তির আগেই বাংলাদেশের দর্শকরা সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন ৩১ জুলাই শুক্রবার মুক্তি পাবে, তার একদিন আগে বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সের বিভিন্ন শাখায় দেখা যাবে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’।
বুধবার সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করে স্টার সিনেপ্লেক্স। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন অভিনয়শিল্পী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং সাংবাদিকরা। প্রদর্শনী প্রসঙ্গে স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে সিনেমাটি ৩১ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে। তবে বিশেষ অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশের মার্ভেল ভক্ত ও দর্শকদের জন্য এই বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
সিনেমাটি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই টম হল্যান্ড এবং মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ৩৮তম এই কিস্তি নিয়ে চরম উত্তেজনা রয়েছে। বাংলাদেশে মার্ভেলের একটি বিশাল তরুণ দর্শকগোষ্ঠী রয়েছে। পূর্ববর্তী সিনেমাগুলো চালিয়েও তারা দারুণ সাড়া পেয়েছিলেন। সঠিক কনটেন্ট পেয়ে দর্শকরা আবারও হলে ফিরছেন, ফলে মুক্তির আগেই প্রথম তিন দিনের টিকিট সম্পূর্ণ সোল্ড আউট হয়ে গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী এক থেকে দুই মাস সিনেমাটি হলে ভালো ব্যবসা করবে।
ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন পরিচালিত এই সিনেমায় স্পাইডার-ম্যান বা পিটার পার্কারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম হল্যান্ড। তার বিপরীতে এমজে চরিত্রে দেখা যাবে জেনডায়াকে। আগের কিস্তির অন্যান্য পরিচিত মুখের মধ্যে জ্যাকব ব্যাটালন এবং হাল্ক খ্যাত মার্ক রাফেলো এই সিনেমাতে ফিরছেন। এছাড়াও যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু নতুন মুখ। পিটারের স্মৃতি মন থেকে মুছে যাওয়ার পর এমজের জীবনে নতুন আসা প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করছেন ইমান এসফান্দি। অন্যদিকে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ খ্যাত অভিনেত্রী সেডি সিঙ্ককে দেখা যাবে একটি রহস্যময় চরিত্রে।
মার্ভেল ভক্তদের জন্য বড় চমক হিসেবে হাজির হচ্ছেন নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘ডেয়ারডেভিল’-এর অভিনেতা জন বার্নথাল। বড় পর্দায় আবারও তার আইকনিক ‘ফ্র্যাঙ্ক ক্যাসেল’ বা ‘দ্য পানিশার’ চরিত্রে দেখা যাবে। ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর ঘটনার চার বছর পরের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন এই সিনেমা। ডক্টর স্ট্রেঞ্জের মন্ত্রের প্রভাবে বিশ্ব এখন পিটার পার্কারের কথা পুরোপুরি ভুলে গেছে। একা হয়ে পড়া পিটার নিউইয়র্ক শহরকে রক্ষা করতে গিয়ে এক শক্তিশালী ও রহস্যময় হুমকির মুখোমুখি হয়। একাকিত্ব ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে এবার পিটার পার্কারকে আরও স্বাধীন ও পরিণত রূপে দেখতে পাবেন দর্শকরা।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি। বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটিই প্রথম সিনেমা, যা সম্পূর্ণভাবে ‘শট ফর স্ক্রিন-এক্স’ প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে প্রচলিত মূল পর্দার পাশাপাশি সিনেমা হলের দুই পাশের দেয়ালেও দৃশ্য সম্প্রসারিত হয়, যা দর্শকদের ২৭০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউতে সিনেমা উপভোগের সুযোগ দেয়।




