রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার পর্দা নেমেছে গতকাল রোববার। এবারের আয়োজনে মোট ১৬ লাখ গাছের চারা বিক্রি হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। বন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি বছরের ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সমাপনী দিনে আগারগাঁওয়ের বন ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এবারের মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং চারা বিক্রির পরিমাণ প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন, সেই লক্ষ্যমাত্রা এখন বাস্তবায়নের পথে। সবাই মিলে চারা রোপণ ও পরিচর্যা করলে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের ২৭ শতাংশ এলাকা বৃক্ষ আচ্ছাদনে উন্নীত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলের সংখ্যা ছিল ৭৪টি। গত বছর একই মেলায় ১৫ লাখ চারা বিক্রি হয়েছিল, অর্থাৎ এবার আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ চারা বেশি বিক্রি হয়েছে। মেলার আকর্ষণ ছিল বিদেশি নানা প্রজাতির ফলদ গাছ, যেমন আমাজনের হলুদ সফেদাসহ বিভিন্ন জাতের আম ও অন্যান্য ফল।
মেলার সেরা ডাবল স্টল (১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের) নির্বাচিত হয়েছে 'হোসেন নার্সারি'। প্রতিষ্ঠানটি এবার ৯৪ হাজার গাছের চারা বিক্রি করে ৯২ লাখ টাকা আয় করেছে। স্টলটিতে ১ হাজার ৪০০ প্রজাতির গাছের চারা প্রদর্শন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ফলদ, বনজ, অর্নামেন্টাল, অর্কিড, বনসাই ও ঔষধি গাছ। হোসেন নার্সারির স্বত্বাধিকারী সাদ্দাম হোসেন জানান, এবার ক্রেতাদের মধ্যে ঔষধি গাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল। বিশেষ করে 'ইনস্যুলিন প্ল্যান্ট' সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া হরীতকী, বহেড়া, তুলসী, নিম, নিশিন্দা, ওরেগ্যানো, করোসেল ও পাথরকুচির চারাও বিক্রি হয়েছে। তিনি মনে করেন, মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ায় ভেষজ উদ্ভিদের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে সিঙ্গেল স্টল (৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের) ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে 'বিসমিল্লাহ নার্সারি'। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নিক্সন আহমদ জানান, তাঁর স্টলেও ঔষধি গাছের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। হরীতকী, বহেড়া, অশ্বগন্ধা, নাগেশ্বর, কর্পূর, হাড়জোড়াসহ মোট ৩৫ প্রজাতির ঔষধি গাছের চারা তাঁরা এবার বিক্রি করেছেন। মেলায় বিসমিল্লাহ নার্সারি মোট ১৫ হাজার গাছের চারা বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফলদ গাছের চারারও ভালো বাজার ছিল, বিশেষ করে রামবুটান, পার্সিমন, অ্যাভাকাডো ও আঙুরের চারা ক্রেতারা বেশি কিনেছেন।
মেলার আয়োজকরা জানান, পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নে জনসাধারণের আগ্রহ বাড়াতে প্রতি বছরের মতো এবারও এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হলো।




