গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার এক ফোনালাপে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেন সেদিন কোনো সংঘাতের খবর প্রচার না হয়। এর জবাবে আরাফাত জানান, কোনো চ্যানেল যদি সংঘাত বা মারামারির ভিডিও বা ছবি দেখায়, তবে তাকে 'রাষ্ট্রের শত্রু' ঘোষণা করে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন এই অডিও রেকর্ডিং বাজিয়ে শোনান।
কথোপকথনে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, যারা নির্দেশ মানবে না, তাদের টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জবাবে আরাফাত উল্লেখ করেন, আগের দিন কয়েকটি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আজও যারা শুনবে না, তাদের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে কাউকে বসিয়ে রাখা হয়েছে যেন সংঘাতের ছবি দেখালে সাথে সাথে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এজন্য তাকে 'ঢালাও পারমিশন' দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আলাপচারিতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গও ওঠে। আরাফাত জানান, তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি একটি মতামত তৈরি করেছেন এবং তা প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করার পর ওবায়দুল কাদেরকে জানাবেন। তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে—একভাগ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আছে, আর অন্যভাগ হলো জামায়াত-বিএনপির 'সন্ত্রাসী' যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। কারফিউয়ের সিদ্ধান্ত সেই 'সন্ত্রাসীদের' বিরুদ্ধে, আর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে 'সফট সলিউশনে' যাওয়ার ন্যারেটিভ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের এ কৌশলকে 'ঠিক আছে' বলে সমর্থন জানান।
এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ আসামি। সবাই বর্তমানে পলাতক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এই সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।




