আরনে স্লটের স্থলে আন্দ্রোনি ইরাওলাকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগের পর এবারের গ্রীষ্মের দলবদলকে ঘিরে লিভারপুল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা ছিল। ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে এই পরিবর্তনকে অ্যানফিল্ডে রূপান্তরের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমনটা হয়নি, বরং নতুন মৌসুম শুরুর আগে ইরাওলার অধীনে দল গঠনের কাজটা মোটেও প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি।

এই দলবদলে এখন পর্যন্ত লিভারপুল স্থায়ীভাবে মাত্র দুইজন খেলোয়াড়কে দলে ভিড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে চুক্তি সম্পন্ন হলেও জানালা খোলার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জেরেমি জ্যাকেট মের্সিসাইডে পা রেখেছেন। অন্যদিকে, ভিক্টর মুনিয়োজ এসেছেন, যাকে মূলত রেডদের আক্রমণভাগের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডিফেন্সের গভীরতা বাড়াতে বার্সেলোনা থেকে ধারে এসেছেন রোনাল্ড আরাউহো, যিনি ক্যাম্প নউয়ে নিজের অবস্থান হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে নতুন করে নিজেকে প্রমাণের আশা করছেন। তবে উরুগুয়ের এই ডিফেন্ডারকে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে দেখছে না ক্লাবটি।

গ্রীষ্মের দলবদল বন্ধ হতে আর দুই সপ্তাহের কম সময় বাকি, কিন্তু লিভারপুলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্র্যাডলি বারকোলার নাম নিয়মিত শোনা যাচ্ছে, কিন্তু ফ্রান্সের এই আন্তর্জাতিক ফুটবলারকে ছাড়তে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি দাবি করছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই।

বারকোলাকে দলে পেলে সেটি হবে দর্শকদের জন্য বিস্ময়কর সংযোজন। গত দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি, ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের হয়ে খেলেছেন। শীর্ষ পর্যায়ে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করা বারকোলা লিভারপুলের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজন হয়ে উঠতে পারেন।

২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে মোহাম্মদ সালাহর বিদায়ে লিভারপুলের নতুন উইঙ্গারের প্রয়োজনীয়তা প্রকট হয়ে ওঠে। বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো আইভরিয়ান উইঙ্গার ইয়ান দিওমঁদেকে দলে টানতে আগ্রহী ছিল লিভারপুল, তবে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে যায় তারা। সেই দৌড়ে ব্যর্থ হওয়ার পর বারকোলাই এখন লিভারপুলের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে।

বারকোলা মূলত বাম প্রান্তে খেলেন, সালাহ যেখানে ডান প্রান্তে খেলতেন। তবে ইরাওলা চাইলে হুগো একিতিক ও আলেক্সান্ডার ইসাককে একসঙ্গে খেলিয়ে আক্রমণভাগে নতুন কৌশল নিতে পারেন, যারা এখন পর্যন্ত একসঙ্গে মাঠে তেমন একটা সময় পায়নি।

অ্যানফিল্ডে বর্তমানে অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে ইরাওলার হাতে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ে ভরা দল রয়েছে। গত বছর লিভারপুল বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করেছিল, এবং নতুন ম্যানেজারের অধীনে সেই খেলোয়াড়দের সঠিক ব্যবহার করা সম্ভব। বারকোলা সেই দলে যোগ দেওয়া পরবর্তী বড় তারকা হতে পারেন।